নোয়াখালীতে বাবার কোলে থাকা শিশুকে গুলি করে হত্যা

ঢাকা, সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২,   ১৯ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

নোয়াখালীতে বাবার কোলে থাকা শিশুকে গুলি করে হত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৪১ ১৩ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ২৩:৩১ ১৩ এপ্রিল ২০২২

জান্নাতুল ফেরদাউস ফাইল ছবি

জান্নাতুল ফেরদাউস ফাইল ছবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে বাবার কোলে থাকা তিন বছরের সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউসকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় রিমন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌদি প্রবাসী মাওলানা আবু জাহেরও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি উপজেলার হাজীপুর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাসাদ মিয়ার বাড়ির মৃত জানু সরদারের ছেলে।

বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার ১৪ নম্বর হাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মলকার বাপের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রিমন একই উপজেলার দুর্গাপুর ইউপির লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামের দানিজ বেপারী বাড়ির মমিন উল্যার ছেলে।

১৪  নম্বর হাজীপুর ইউপি চেয়রম্যান মো. শাহ আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রিমন এলাকার চিহিৃত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

নিহতের মামাতো ভাই ব্যবসায়ী আবদুল্যাহ আল মামুন বলেন, কয়েক দিন আগে আল আমিন নামে এক ব্যক্তি জমিনের মাটি বিক্রি করে সন্ত্রাসী রিমন বাদশার কাছে। বাদশা ওই জায়গা থেকে ৬ ফিট মাটি কাটে। এরপর আরো মাটি কাটতে গেলে লোকজন তাকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে মাটি কাটতে বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে সন্ত্রাসী রিমন ও তার সহযোগী রহিম, মহিন, সুজনসহ আরো কয়েকজন একাধিকবার বাড়িতে এসে গোলাগুলি করে এবং আমার গর্ভবতী ভাগনিকে পেটে লাথি দেয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই নারীকে প্রথমে চিকিৎসা দিতে বলেন।

তিনি আরো বলেন, মাটি কাটার বিরোধের জের ধরে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সন্ত্রাসী রিমনের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সক্রিয় সদস্য রহিম, মহিন, সুজনসহ ১০-১৫ জন অস্ত্রধারী মালকার বাপের দোকানে এলাকায় অবস্থিত আমার দোকানে এসে গালিগালাজ করে। ওই সময় আমার মামা জাহের তার শিশু মেয়ে জান্নাতকে নিয়ে দোকানে আসে চিপস আর চকলেট কিনে দেওয়ার জন্য। সন্ত্রাসী রিমন মামাকে দোকানে দেখে মামাকে গালমন্দ করে বলে তোর শেল্টারে এরা এসব করছে। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে এবং জান্নাতকে ইট দিয়ে আঘাত করে। এরপর মামা দোকান থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে রিমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা পেছন থেকে পুনরায় জান্নাতকে এবং মামাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে জান্নাত কানে, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় এবং মামা চোখে গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জান্নাত মারা যায়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বেগমগঞ্জ সার্কেল নাজমুল হাসান রাজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।   

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »