মুক্তির আলো 

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২১ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

মুক্তির আলো 

মূলঃ  ‘Freedom From The Known’ by  Jiddu Krishnamurti

অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ১২ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৬:৩৫ ১২ এপ্রিল ২০২২

ছবি: অন্তর্জাল 

ছবি: অন্তর্জাল 

“আমরা মানুষেরা লাখ লাখ বছর ধরে একইরকম সত্তা ধারণ করছি। আমরা সবাই প্রবলভাবে লোভী, হিংসুটে, আক্রমণাত্মক, ঈর্ষাকাতর, অস্থির ও হতাশাজনক, কিন্তু মাঝে মাঝে স্নেহময়। আমরা প্রত্যেকেই ঘৃণা, ভয় ও ভদ্রতার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। একইসাথে আমরা সহিংস ও শান্তিকামী। কিছু বাহ্যিক উন্নতি যেমন গরুর গাড়ি থেকে জেট-প্লেন পর্যন্ত অগ্রযাত্রা হলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যক্তি মানুষের মোটেই কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ ব্যক্তি মানুষেরাই যুগে যুগে সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন সমাজের বাহ্যিক গঠন নির্ধারণ করে দিয়েছে। সমাজের এই বাহ্যিক গঠন ব্যক্তিমানুষের ভেতরগত মনস্তাত্ত্বিক গঠনের ফল। কারণ, ব্যক্তিমানুষ হলো সামগ্রিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও আচরণের বাহক এবং অতীতের একেকটি গুদামঘর। ব্যক্তিই হলো সেই সত্তা, যা মানবজাতিকে সামগ্রিকভাবে বিম্বিত করে। মানবজাতির ইতিহাসও ব্যক্তিরাই লিখেছে।  

প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সমাজে আমাদের বাস। ক্ষমতা, অবস্থান, সম্মান, নামডাক ও সাফল্যই এই সমাজে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। সুতরাং এখানে ভেতরের বা বাইরের সাফল্যের ধরনকে (যার জন্যে আমরা প্রত্যেকে খুবই গর্বিত) সত্যিকার অর্থে যদি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তাহলে সেখানে সম্পর্কগুলোর ভেতরে ঘৃণা, শত্রুতা, নিষ্ঠুরতা ও সীমাহীন যুদ্ধাবস্থা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাবে না। অথচ জীবনের এই বিশাল অস্তিত্বের যুদ্ধকে আমরা কেউই বুঝতে পারি না। ফলে ভীত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজি। অজানাকে ভয় পাই। মৃত্যুকে ভয় পাই। ভবিষ্যতকে ভয় পাই। এটাই হলো আমাদের দৈনন্দিন আশাহীন জীবন। এখানে দার্শনিক তত্ত্ব বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণও আমাদেরকে কেবলমাত্র বাস্তবতা থেকে পালানোর পথ বাতলে দেয়।        

যে কোনো সমাজের জন্যে যুদ্ধ, বিপ্লব, সংস্কার, আইনকানুন, এমনকি আদর্শ সবই বাহ্যিক পরিবর্তনের নিমিত্ত মাত্র। বর্তমান পর্যন্ত এগুলো মানুষ বা সমাজের মূল প্রকৃতিকে বদলে দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে কি এই বিশাল  কদাকার পৃথিবী হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও নিষ্ঠুর সমাজকে বিলীন করে দেওয়া সম্ভব নয়? সম্ভব, যদি আমরা নতুন, সতেজ, নির্দোষ ও সৃষ্টিশীল মন দিয়ে আমাদের পূর্বতন সত্তাকে প্রতিস্থাপন করতে পারি। তখনই আমরা বুঝতে পারব যে, পৃথিবীর যে অংশেই আমাদের বাস হোক না কেন বা যে সংস্কৃতির আমরা অংশই আমরা হই না কেন, আমরা প্রত্যেকেই পৃথিবীর সামগ্রিক অবস্থার বিষয়ে দায়িত্ববান। প্রত্যেকেরই করণীয় আছে।           

পৃথিবীতে সংঘটিত প্রতিটি যুদ্ধের বিষয়েও প্রতিটা মানুষ দায়ী। কারণ আমাদের জাতীয়তাবোধ, আমাদের স্বার্থপরতা, আমাদের ঈশ্বরেরা, আমাদের আদর্শ, আমাদের কুসংস্কার – সবকিছুই আমাদের ব্যক্তিমানসকে প্রতিনিয়ত  বিভক্ত করে। সুতরাং বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সত্যিকার অর্থেই আমরা যখন বুঝতে পারব যে, ক্ষুধা বা বেদনা সবকিছুর পেছনেই আমাদের প্রত্যেকের অবদান আছে, কেবলমাত্র তখনই যুদ্ধ, বিভক্তি, নিষ্ঠুরতা ও লোভের পৃথিবীতে আমরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হব।”

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর

English HighlightsREAD MORE »