পাকিস্তানের কোন প্রধানমন্ত্রী কতদিন ক্ষমতার মসনদে ছিলেন
15-august

ঢাকা, রোববার   ১৪ আগস্ট ২০২২,   ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৫ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

পাকিস্তানের কোন প্রধানমন্ত্রী কতদিন ক্ষমতার মসনদে ছিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৫ ১০ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৯:৩১ ১০ এপ্রিল ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার প্রায় ৭৬ বছর পরও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট কেটে ওঠেনি। রাজনৈতিক সংকট না কাটার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে দেশটির ২২ প্রধানমন্ত্রীর কেউই ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। নানা কারণে নির্ধারিত মেয়াদের আগে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে প্রত্যেককে।

পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লিয়াকত আলী খান। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে আততায়ীর গুলিতে মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে ৪ বছর ২ মাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

লিয়াকত আলী খান নিহতের একদিন পর ১৯৫১ সালের ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন খাজা নাজিমুদ্দিন। ১৯৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল নাজিমুদ্দিনকে গভর্নর জেনারেল প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেন। একই দিন সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বগুড়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন গভর্নর জেনারেল। কিন্তু ১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি।

১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তানের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন চৌধুরী মোহাম্মদ আলী৷ ১৯৫৬ সালের সংবিধানে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য পাকিস্তানে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর নাম এখনো উচ্চারিত হয়৷ কিন্তু ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দলের সদস্যদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন।

১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। কিন্তু ইস্কান্দার মির্জার সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে ১৯৫৭ সালের ১৭ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। ইব্রাহিম ইসমাইল চুন্দ্রিগার ১৯৫৭ সালের ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। তবে ১৬ই ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন।

১৯৫৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ফিরোজ খান নুনকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদে উন্নীত করেন ইস্কান্দার মির্জা। কিন্তু ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির সময় নুনকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেন।

১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৩ বছর সামরিক আইন জারির পর স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খানের প্রশাসনের অধীনে নুরুল আমিনকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজয়ের পর ২০ ডিসেম্বর আমিনকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷

১৯৭৩ সালের ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হন জুলফিকার আলী ভুট্টো। তিনি ১৯৭৭ সালে পুনরায় সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়ী হন। কিন্তু, সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিনি কারাবন্দি হন এবং ১৯৭৯ সালে ৫ জুলাই তার ফাঁসি হয়।

১৯৮৫ সালের ২৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মুহাম্মদ খান জুনেজো।  তবে ১৯৮৮ সালের ২৯ মে জুনেজোর সরকার বরখাস্ত করা হয়। জুলফিকার আলী ভুট্টোর মেয়ে বেনজির ভুট্টো ১৯৮৮ সালের ২ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে তার দল অভিশংসন থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি গুলাম ইসহাক খান তাকে সরিয়ে দেন।

১৯৯০ সালের ৬ নভেম্বর দায়িত্ব নেন নওয়াজ শরীফ। কিন্তু ১৯৯৩ সালে আবার রাষ্ট্রপতি গুলাম ইসহাক খান একটি নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করেন৷ পরে সুপ্রিম কোর্ট শরীফের সরকারকে পুনর্বহাল করেন। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ১৮ জুলাই নওয়াজ শরীফ এবং গুলাম ইসহাক খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

১৯৯৩ সালের ১৯ অক্টোবর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন বেনজির ভুট্টো। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ফারুক লেঘারি ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর তার সরকারকে বরখাস্ত করেন। ১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হন নওয়াজ শরীফ। তবে, ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর জেনারেল পারভেজ মোশাররফ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং নওয়াজ শরীফকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।

২০০২ সালের নভেম্বরে জাফরুল্লাহ খান জামালি স্বৈরশাসক পারভেজ মোশারফের অধীনে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু, ২০০৪ সালের ২৬ জুন মোশাররফ তাকে বরখাস্ত করেন। চৌধুরী সুজাত ২০০৪ সালের ৩০ জুন পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হন। শওকত আজিজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন সুজাত। শওকত আজিজ ২০০৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ করে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি দায়িত্ব ত্যাগ করেন।

২০০৮ সালের ২৫ মার্চ সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইউসুফ রাজা গিলানি। তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করে। কিন্তু ২০১২ সালে শীর্ষ আদালত অবমাননার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদ শেষ করতে গিলানির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাজা পারভেজ আশরাফ। ২০১২ সালের ২২ জুন থেকে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

২০১৩ সালের ৫ জুন তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন নওয়াজ শরীফ। পাকিস্তানের পূর্ববর্তী সব প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় এখন পর্যন্ত তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক অভিশংসিত হওয়ার আগে তিনি ৪ বছর ৫৩ দিন ক্ষমতায় ছিলেন।

নওয়াজ শরীফকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে শাহীদ খাকান আব্বাসিকে ২১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু ২০১৮ সালের ৩১ মে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কারণ, নতুন নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট ২২তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ইমরান খান। ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান খান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »