পাইকারির তরমুজ খুচরায় গিয়ে ‘সোনার হরিণ’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১২ আশ্বিন ১৪২৯,   ২৯ সফর ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

পাইকারির তরমুজ খুচরায় গিয়ে ‘সোনার হরিণ’

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০২ ৬ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ২১:০৪ ৬ এপ্রিল ২০২২

তরমুজ

তরমুজ

পবিত্র রমজান মাস আর তীব্র গরম, দুটো এক হওয়ায় বেড়েছে মৌসুমি ফল তরমুজের চাহিদা। আর সেই চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও। পাইকারি বাজারে পিস হিসেবে বিক্রি হওয়া তরমুজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে কেজিতে। ফলে পাইকারি থেকে খুচরায় গিয়ে অন্তত তিনগুণ বেশিতে ঠেকছে তরমুজের দাম। বুধবার চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার বিআরটিসি ফলমণ্ডিসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র।

দেখা গেছে, ফলমণ্ডিতে হরদম চলছে তরমুজের বেচাকেনা। আকার ও মানভেদে তরমুজ আলাদা করে রেখেছেন আড়তদাররা। আর পিস হিসেবে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে পিস হিসেবে কিনলেও একই হিসেবে বিক্রিতে নারাজ খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি- পরিবহন ও মজুরি খরচ বাড়ায় পিসের হিসাব বাদ দিয়ে কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে তরমুজ।

এসব দাবি মনগড়া জানিয়ে মূলত অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই খুচরায় দাম বেড়েছে বলে বলছেন পাইকাররা।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় তরমুজের চাষ হয়। এসব জায়গা থেকে সারাদেশে তরমুজ কিনে নেন ব্যবসায়ীরা। সেখানে শ’ হিসেবে তরমুজ বিক্রি করে থাকেন চাষিরা। পাইকাররা প্রতি একশ পিস তরমুজ মানভেদে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় কিনে নেন। এক্ষেত্রে প্রতি পিস তরমুজের দাম পড়ে ১০০-১২০ টাকা। এরপর পরিবহন, শ্রমিকসহ সবকিছু মিলিয়ে মানভেদে ১৫০-১৮০ টাকায় এসব তরমুজ বিক্রি করেন তারা। অথচ খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফার লোভে কেজিপ্রতি সেই তরমুজ বিক্রি করেছেন ২৫০-৪৫০ টাকায়।

ফলমণ্ডির ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, তরমুজ পচনশীল পণ্য। বেশি দামের আশায় রেখে দিলে আমাদেরই লোকসান। খুচরা বাজারে অনেকে ‘পাইকারিতে দাম বেশি’ বলে অধিক দামে তরমুজ বিক্রি করছেন। কেউ কেউ কেজিতেও বিক্রি করছেন। সত্য কথা হচ্ছে- পাইকারি বাজারে তরমুজের দাম খুব একটা বাড়েনি। এছাড়া লাখ লাখ তরমুজ আমরা পিস হিসেবেই বিক্রি করি। সুতরাং, পাইকারি বাজারের দোহাই দিয়ে ক্রেতা ঠকানোর সুযোগ নেই।

খুচরা ব্যবসায়ী মো. মামুন বলেন, তরমুজ কেনা থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ, শ্রমিক খরচসহ সবকিছু মিলিয়ে পিস হিসেবে বিক্রি করে পোষায় না। আমরা কম খরচে আনতে পারলে কম দামে বিক্রি করতে পারি। কিন্তু খরচ বেশি পড়লে তা সম্ভব হয় না। 

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলী হোসেন বলেন, পাইকারিতে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন আড়ত থেকে লাখ লাখ পিস তরমুজ বিক্রি হয়। এটি পচনশীল, তাই অল্প লাভ পেলেই বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে আপেল, আঙ্গুর, কমলাসহ আমদানিকৃত কিছু ফলের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে এসব ফল কীভাবে বিক্রি হচ্ছে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক দিদার হোসেন বলেন, আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। কিন্তু বিষয়টি হলো- আমরা যতক্ষণ অভিযানে থাকি, ততক্ষণ সব ঠিক। চলে গেলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আবারো আগের মতো শুরু করে। এটি দুঃখজনক। তবু ভোক্তাদের জানাতে চাই- আপনারা প্রতারিত হলে আমাদের কাছে অভিযোগ করুন। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »