বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রেম, অতঃপর...

ঢাকা, সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১২ আশ্বিন ১৪২৯,   ২৮ সফর ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রেম, অতঃপর...

ভোলা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৭ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২১:৪১ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২

গ্রেফতারকৃত প্রতারক আবির হাসান

গ্রেফতারকৃত প্রতারক আবির হাসান

ভোলায় বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পরিচয় প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. আবির হাসান নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সে পাবনার চাটমোহর থানার বরদানগর দক্ষিণ পাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে।

বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফরহাদ সর্দার।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে- আবির হাসান আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী দলের সদস্য। ভোলার ঐ তরুণীকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে নিয়ে যায় সে। এ ঘটনায় ভোলা সদর থানায় ধর্ষণ, অপহরণ ও প্রতারণা মামালা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সর্দার জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোলা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরা আক্তার ইতি (ছদ্মনাম) নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে সদর থানায় জিডি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের পাহাড়পুর ইকবাল স্কুল সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে নিখোঁজ মিরা আক্তার ইতিকে উদ্ধার ও আবির হোসেনকে গ্রেফতার করে।

ভিকটিম ইতি জানান, আবির তার মোবাইলে মেসেজ দিয়ে নিজেকে বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নেয়। এক পর্যায়ে কৌশলে ভারতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে অপহরণ করে দিনাজপুরের পাহাড়পুরে নিয়ে যায়। সেখানে ইতিকে ধর্ষণ করে আবির।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আবির হাসান জানায়, সে পেশাদার অপরাধী ও প্রতারক। গত ৯ মাস ধরে সে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেয়েদের সঙ্গে ফেসবুক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এছাড়া সে নিজেকে বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট, মানবকল্যাণ ও সরকারি বিভিন্ন সফর, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থায় যোগদানসহ নানা চটকদার নিউজ প্রচার করে। আবার সেগুলো মেয়েদের মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে আস্থা অর্জন করে। যারা তাকে বিশ্বাস করতেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবির টাকা, ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল হাতিয়ে নিতো। এছাড়া দেশের বাইরের পত্রিকায় তাকে নিয়ে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতারণা করতো। পরে প্রতারণার টাকা নিয়ে নদীপথে ভারতে যাতায়াত করত।

আবির হাসানের অনেক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়া সে কোনো জঙ্গি কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সদস্য কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ধর্ষণ, অপহরণ ও প্রতারণা মামালা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সর্দার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

English HighlightsREAD MORE »