ভালোবাসা দিবসে চবিতে ফুল বিক্রি-মেহেদী পরাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ভালোবাসা দিবসে চবিতে ফুল বিক্রি-মেহেদী পরাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫২ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ফুল বিক্রিই নয় এর পাশাপাশি দেখা গেলো তরুণীদের মেহেদী পরানোর আয়োজন

ফুল বিক্রিই নয় এর পাশাপাশি দেখা গেলো তরুণীদের মেহেদী পরানোর আয়োজন

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস এসেছে একইদিনে। তাইতো ঋতুরাজ বসন্তে ভালোবাসার দোলা দিচ্ছে সবার অন্তরে। এই দিন প্রিয়জনদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় বিভিন্ন বয়সের মানুষ। আর দিনকে ঘিরে ফুলের চাহিদাও থাকে বেশি। বিশেষ করে ভালোবাসা দিবসে এবং আগের দিন ফুল বিক্রির ধুম পড়ে। 

আজ পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রকমারি ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকে। এদের মধ্যে রয়েছে চবি শিক্ষার্থীও। তাদেরই একজন রানা। 

ফুল বিক্রি নিয়ে বলেন, আজকের দিনকে ঘিরে ফুল বিক্রি হয় অনেক। বিশেষ করে ভালোবাসার মানুষকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর অন্যতম মাধ্যম এই ফুল। সকাল থেকে শুরু হয় বিক্রি।

তিনি আরও বলেন, পরিচিত অপরিচিত অনেকের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শুধু ফুল বিক্রিই নয় এর মাধ্যমে আমার নতুন এক অভিজ্ঞতাও হচ্ছে। কেমন বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েক ধরনের ফুল নিয়ে এসেছি। তবে বেশি বিক্রি হচ্ছে লাল গোলাপ। দাম আকার অনুযায়ী নিচ্ছি।  ভালোই বিক্রি হয়েছে। 

শুধু ফুল বিক্রিই নয় এর পাশাপাশি দেখা গেলো তরুণীদের মেহেদী পরানোর আয়োজন। মেয়েদের সঙ্গে মেহেদী পরায় যুক্ত হয়েছেন ছেলেরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে টেবিল সাজিয়ে মেহেদী পরানো কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ হয়। 

তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী রুবাইয়া তাসনীম আহমেদ জানালেন, ভালোবাসার দিনে সুন্দর পোশাকের সঙ্গে হাতকে সুন্দর করে রাঙাতে চান অনেকে। ভালো লাগা আর সখ থেকেই আজকে মেহেদী পরানো কাজ করছি। অনেক সাড়া মিলছে। ডিজাইন অনুযায়ী দাম। ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই নিচ্ছি। 

ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন বরাবরের মতই পরিণত হয়েছে তরুণ-তরুণীদের মিলনমেলায়। সকাল থেকে ক্যাম্পাসে তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা ছিল দেখার মতো। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বাসন্তী রঙের শাড়ি, কপালে টিপ, হাতে চুড়ি, পায়ে নূপুর, খোঁপায় ফুল অথবা রিং জড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। সেই রিনিঝিনি ছন্দ যেন আন্দোলিত করছে লাল অথবা সফেদ পাঞ্জাবি পরা প্রেমিকদের হৃদয়। প্রেমের গল্প-আড্ডায় সেলফিও বাদ যাবে কেন? সেজন্য হাত বাড়িয়ে সেলফি উৎসবেও মাততে দেখা গেলো কাউকে কাউকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, বুদ্ধিজীবী চত্বর, ঝুপড়ি আর হলগুলোর সম্মুখ প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছে তরুণ-তরুণীদের মিলনমেলায়। 

সব দিনই ভালোবাসার উল্লেখ করে চবি শিক্ষার্থী তানিম হোসেইন বলেন, ভালোবাসা দিবস নামে আলাদা দিন থাকলে তাতে মন্দ কিছু নেই। কেননা বিশেষ একটি দিনে যদি কাছের এবং ভালোবাসার মানুষকে একটু আলাদাভাবে নিজেকে প্রকাশ করা যায় নিজেদের সম্পর্কটা গাঢ় হয়। তবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ভালোবাসা পৌঁছে দিতে পারলে দিবসটি পূর্ণতা পাবে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী লুৎফুন্নাহার লাইমা বলেন, একেকজনের কাছে তাই ভালোবাসার সংজ্ঞাটাও আলাদা৷ কারো কাছে ভালোবাসা প্রেমময় গান বা কবিতার লাইন, আবার কারো কাছে লাল গোলাপ হয়ে ধরা দেয়৷ তবে অনুভূতির গভীরতা মাপতে গেলে তল পাওয়া যায় না কারো মনেরই৷ ভালোবাসা এমনই এক উষ্ণতা, যা একই রকম থেকে যায় আজীবন৷জীবনে মায়ের স্থান যেমন বদলে যায় না কোনোদিন, প্রিয় বই বা গান যেমন নির্দিষ্ট থেকে যায় মনে, তেমনি ভালোবাসার স্বরূপও পাল্টায় না৷আমরা যাকে ভালোবাসি, তাকে চিরদিনই বাসি৷ 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »