যে সব কারণে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

যে সব কারণে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩১ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:৩৪ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একযোগ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা নিলেও সেই দুর্ভোগই রয়ে গেলো। এর রেশ রয়ে গেছে ভর্তি নিয়ে অব্যবস্থাপনায়, শিক্ষার্থীদের পছন্দের কেন্দ্র না পাওয়া। সবশেষে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে না পারা। এছাড়াও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ আসনই এখন ফাঁকা রয়েছে। 

এদিকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিকটে চলে আসলেও এখনো আগের শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমই শেষ করতে পারেনি গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অধিক জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তি নিতে চাওয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শেষ হওয়া এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির এক বছর অতিক্রম হয়ে যাওয়াই সংকটের মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন>>> পাঁচ মাসেও শেষ হয়নি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম

জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের সুবিধা মতো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে প্রায় ১০ মাস হতে চললেও এখনো আসন পূরণ করতে পারেনি গুচ্ছভুক্ত অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য সপ্তমবারের মতো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তবুও ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী পাচ্ছে না তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত তিনটি কারণে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে প্রধান এবং অন্যতম কারণ হলো অধিক জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিতে চাওয়ার প্রবণতা। গুচ্ছভুক্ত সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ই এসএসসি এবং এইচএসসিতে ৮ জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির জন্য ডেকেছে। তবে তাদের অধিকাংশই মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় গুচ্ছে আসন ফাঁকা রয়েছে। কম জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির জন্য ডাকা হলে আসন ফাঁকা থাকত না।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়া। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অনেক আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বড় বড় কলেজগুলোতে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় তারা এখন আর গুচ্ছে আসতে চাচ্ছে না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থী পাচ্ছে না গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

আরো পড়ুন>>> নিজের হলেই ঢাবি শিক্ষার্থীর গায়ে হলুদ

সবশেষ কারণ হিসেবে ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়ে গেছে। তাদের ভর্তির প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। বেসরকারিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও এক বছর অতিক্রম হয়ে যাওয়ায় তারা এখন আর গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টেকনিক্যাল কিমিটির আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, প্রথমবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। তবে সেগুলো ঠিক করলে এই সমস্যাগুলো আর থাকবে না। আমরা বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০১ জন। তবে সিলেকশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »