রক্তিম হস্তছাপে প্রতিবাদ: ফের বিক্ষোভে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, শুক্রবার   ০৭ অক্টোবর ২০২২,   ২২ আশ্বিন ১৪২৯,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

রক্তিম হস্তছাপে প্রতিবাদ: ফের বিক্ষোভে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২০ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

আইআইসিটি ভবনের দেয়ালে রক্তিম হস্তছাপ আঁকা হয়

আইআইসিটি ভবনের দেয়ালে রক্তিম হস্তছাপ আঁকা হয়

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভে উত্তাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের অতর্কিত হামলার ঘটনায় আইআইসিটি ভবনের দেয়ালে দেয়ালে রক্তিম হস্তছাপে প্রতিবাদ করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে আইআইসিটি ভবনের দেয়ালে রক্তিম হস্তছাপ আঁকা হয়। 

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘এক দফা এক দাবি, ফরিদ তুই এখন যাবি’, ‘ফরিদের গদিতে, আগুন জ্বালাও একসাথে’, ‘এক দুই তিন চার, ফরিদ তুই গদি ছাড়’, ‘ফরিদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘শাবিপ্রবির ছাত্রসমাজ, লড়াই করো একসাথে’, ‘একাউন্টগুলো বন্ধ কেন, তুলে নাও তুলতে হবে’, ফরিদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে ক্যাম্পাস সরব করে তুলে।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তা করে সহযোগিতা করায় শিক্ষার্থীদের উপর মামলা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে, অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারসহ বিভিন্ন একাউন্ট নাম্বার খুলে দিতে হবে, ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে, পুলিশ দিয়ে হামলা চালিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের উপর হামলার মদদদাতা ভিসির দ্রুত পদত্যাগের দাবি বাস্তবায়ন করা সহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।

জানা যায়, পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভিসিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐ সময়ে ভিসি পদত্যাগ না করায় ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করে। পরবর্তীতে গণ অনশনের অংশ হিসেবে আরো পাঁচজন শিক্ষার্থী অনশন শুরু করে। গত ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আদায় হওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভিসি পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের (২য় ছাত্রী হল) অব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজাকে এক ছাত্রী কল দেয়। এসময় হল প্রভোস্ট ছাত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। নিয়মিত এরকম সমস্যা হওয়ায় ঐ রাতেই ছাত্রীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। রাত আড়াইটার দিকে ভিসি বের হয়ে ছাত্রীদের তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরদিন ছাত্রীরা তাদের একটি প্রতিনিধি দল ভিসির কাছে পাঠায়। এসময় ভিসি তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য এক মাস সময় চান। ছাত্রীরা এ প্রস্তাব মেনে না নিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সন্ধ্যা ৫ টার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষক, কর্মচারী সহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ভিসি পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »