অনশন ভাঙার ১৫ দিনেও শাবিপ্রবি ভিসি পদত্যাগ না করায় বিক্ষোভ

ঢাকা, শুক্রবার   ০৭ অক্টোবর ২০২২,   ২২ আশ্বিন ১৪২৯,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

অনশন ভাঙার ১৫ দিনেও শাবিপ্রবি ভিসি পদত্যাগ না করায় বিক্ষোভ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৯ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৯:০২ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে ভিসির বাসভবনের ফটকসহ ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে ভিসির বাসভবনের ফটকসহ ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়

অনশন ভাঙার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি আদায় না হওয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে ভিসির বাসভবনের ফটকসহ ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়। 

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ফরিদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘একাউন্ট গুলো বন্ধ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ফরিদের গদি অস্তাচলে, ফরিদ যাবে রসাতলে’, ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা তাদের উপর করা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার, বিকাশ, নগদ ও অন্যান্য একাউন্ট গুলো খুলে দেওয়া, পুলিশের বর্বর হামলার সুষ্ঠু বিচার করা ও অবিলম্বে ভিসির পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে।  

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ভিসি পদত্যাগের আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভিসিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। ঐ সময়ে ভিসি পদত্যাগ না করায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশন শুরু করে। একজন শিক্ষার্থীর বাবা অসুস্থ হওয়ায় পরদিন তিনি বাসায় চলে যান। গত ২৩ জানুয়ারি গণ অনশনে আরো পাঁচ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী ভিসি পদত্যাগের দাবিতে অনশন চালিয়ে যায়। অনশনের ১৬৩ ঘন্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে আসে। কিন্তু ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানায়।

উল্লেখ্য, বেগম সিরাজুন্নেসা হলের অব্যবস্থাপনা ও আনুষঙ্গিক সমস্যা নিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি রাত ৯ টার দিকে হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজাকে এক ছাত্রী কল দেয়। এসময় হল প্রভোস্ট কলে ছাত্রীদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন। নিয়মিত এ ধরনের সমস্যা হওয়ায় ও হল প্রভোস্টের কুরুচিপূর্ণ কথা বলায় ছাত্রীরা ঐ রাতেই আন্দোলন শুরু করে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। রাত আড়াইটায় ভিসি বের হয়ে তাদেরকে আশ্বাস দেন এবং পরদিন সকাল ১১ টায় তাদের দাবি গুলো উপস্থাপন করতে বলেন। ভিসির কথানুযায়ী তারা পরদিন ভিসি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রীরা অবস্থান নেয়। এসময় ছাত্রীদের ১০-১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল ভিসির কাছে যান। ভিসি এক মাস সময় নিলে ছাত্রীরা মেনে নেয়নি। তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যায়।

এদিকে গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন। এরপর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগদান করে। পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রক্টরিয়াল বডিকে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে আসেন। এসময় তারা এক সপ্তাহ সময় চান। শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলে তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ঐদিন বিকালে ভিসি নিজ কার্যালয় থেকে নিজের বাসভবনে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা পিছু নেয়। এসময় তিনি আইআইসিটি ভবনের ৩৩৩ নং কক্ষে আশ্রয় নেন। বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে ভিসিকে মুক্ত করে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ভিসির মদদ অনুযায়ী পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ভিসি পদত্যাগের আন্দোলনে নামে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »