পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই রাবির ৪৭ বিভাগেই

ঢাকা, সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১২ আশ্বিন ১৪২৯,   ২৮ সফর ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই রাবির ৪৭ বিভাগেই

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইবিএ ভবন। ফাইল ছবি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইবিএ ভবন। ফাইল ছবি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৪৭টি বিভাগে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের নূন্যতম মানদণ্ড ধরা হয় ১ অনুপাত ২০। অর্থাৎ প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। তবে এই মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ রাবির ৪৭ বিভাগ। 

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত ৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫৩টি বিভাগ এবং ৭টি ইনস্টিটিউটে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সেখানে ৩৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ১ জন। সুতরাং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক নেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে সবচেয়ে পিছিয়ে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ। এরপরের অবস্থানে ইতিহাস বিভাগ। 

ইউজিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাবিতে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৯৭ জন। বিপরীতে পাঠদানে নিয়োজিত মাত্র ৭ জন শিক্ষক। সে হিসাবে বিভাগটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাত ১:৮৫। অর্থাৎ প্রতি ৮৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিভাগটিতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১ জন। যা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের মানদণ্ডের ধারে-কাছেও নেই।

ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের পরের অবস্থানে রয়েছে ইতিহাস বিভাগ। এই বিভাগে এক হাজার ৪৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। বিভাগটিতে ৮১ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে পিছিয়ে থাকার দিক থেকে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আইন ও ভূমি প্রশাসন এবং আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগ। এই দুই বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গড় অনুপাত ১:৬৬। অর্থাৎ প্রতি ৬৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিভাগটিতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১ জন।

এছাড়াও রাবির ১৩টি বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছে। সেগুলো হলো- সঙ্গীত, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, ফার্মেসি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিশারিজ এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগ। এছাড়াও শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজেও আন্তর্জাতিক মান রয়েছে। ১১টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউট ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি ৪৭ টি বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের আন্তর্জাতিক মান নেই।

তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ। এই বিভাগে ৪৭২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ৪৫ জন শিক্ষক অর্থাৎ প্রতি ১৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক রয়েছেন।

ইউজিসির সর্বশেষ ৪৭ তম বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাবিতে মোট ৩৮ হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৯৭ জন। অর্থাৎ প্রতি ৩৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এখানে একজন করে শিক্ষক আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষক সংখ্যার অনুপাত অনেকটাই কম। সামনের দিনগুলোতে শিক্ষকের অনুপাত কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে প্রশাসন। প্রত্যেক বিভাগেরই যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষক সংকট থাকলে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষক বৃদ্ধি করতে হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম, শিক্ষক নিয়োগ দিলেই যে শিক্ষার মান বেড়ে যাবে, বিষয়টা এমন নয়। আমাদের যে সংখ্যক শিক্ষক আছে তারা সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের পরিচর্যা করলে শিক্ষক সংখ্যার অনুপাত খুব একটা প্রভাব পড়বে না।

তিনি আরো বলেন, কোনো ডিপার্টমেন্টে যদি শিক্ষক সংকট থাকে তাহলে ওই বিভাগের সভাপতি প্রশাসনকে অবগত করবেন। তাছাড়া দ্রুত সময়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পাশ হয়ে গেলে শিক্ষক অনুপাতের সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »