অনশন ভাঙলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, রোববার   ০৩ জুলাই ২০২২,   ১৯ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

অনশন ভাঙলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৯ ২৬ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৩:১৭ ২৬ জানুয়ারি ২০২২

অনশনরত শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙেছেন।

অনশনরত শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙেছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীরা ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের অনুরোধ অনশন ভেঙেছেন। তবে তাদের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় অনশন ভাঙার সময় এসব কথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করলে শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা দীর্ঘ ১৬৩ ঘন্টা অনশন করেছি। ক্ষুধা তৃষ্ণা আমরা একদম ভুলে গিয়েছি। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যেতে পারবো। আমরা এখন অনশন ভাঙলে নিজেদেরকে কি জবাব দেবো তারচেয়ে অনশন করে মারা গেলে কোনো দুঃখ নেই।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, একটা মানুষের জন্য তোমরা এতটা মানুষের জীবন নষ্ট করা ঠিক নয়। তোমাদের কষ্ট দেখে আর সহ্য হচ্ছে না। তোমাদের আন্দোলন যৌক্তিক তবে অনশন ভেঙে ফেলা উচিত। তখন শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে ফেলতে রাজি হলেও তাদের এক দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে শপথ গ্রহণ করে।

আরো পড়ুন: অনশন ভাঙলেন শাবিপ্রবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ভিসি পদত্যাগের আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভিসিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। ঐ সময়ে ভিসি পদত্যাগ না করায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশন শুরু করে। একজন শিক্ষার্থীর বাবা অসুস্থ হওয়ায় পরদিন তিনি বাসায় চলে যান। গত ২৩ জানুয়ারি গণ অনশনে আরো পাঁচ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী ভিসি পদত্যাগের দাবিতে অনশন চালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, বেগম সিরাজুন্নেসা হলের অব্যবস্থাপনা ও আনুষঙ্গিক সমস্যা নিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি রাত ৯ টার দিকে হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজাকে এক ছাত্রী কল দেয়। এসময় হল প্রভোস্ট কলে ছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। নিয়মিত এ ধরনের সমস্যা হওয়ায় ও হল প্রভোস্টের কুরুচিপূর্ণ কথা বলায় ছাত্রীরা ঐ রাতেই আন্দোলন শুরু করে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। রাত আড়াইটায় ভিসি বের হয়ে তাদেরকে আশ্বাস দেন এবং পরদিন সকাল ১১ টায় তাদের দাবি গুলো উপস্থাপন করতে বলেন। ভিসির কথানুযায়ী তারা পরদিন ভিসি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রীরা অবস্থান নেয়। এসময় ছাত্রীদের ১০-১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল ভিসির কাছে যান। ভিসি এক মাস সময় নিলে ছাত্রীরা মেনে নেয় নি। তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যায়।

আরো পড়ুন: ভিসির বাসভবনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করলেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

এদিকে গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রীদের আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া। কিন্তু ছাত্রীরা আবার একত্রিত হয়ে যায়। এরপর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগদান করে। পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রক্টরিয়াল বডিকে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে আসেন। 

এসময় তারা এক সপ্তাহ সময় চান। শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলে তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ঐদিন বিকেলে ভিসি নিজ কার্যালয় থেকে নিজের বাসভবনে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা পিছু নেয়। এসময় তিনি আইআইসিটি ভবনের ৩৩৩ নং কক্ষে আশ্রয় নেন। বিকেলে তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ভিসিকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে ভিসিকে মুক্ত করে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ভিসির মদদ অনুযায়ী পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ভিসি পদত্যাগের আন্দোলনে নামে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »