আবারো মাদরাসায় পড়ার সুযোগ পেল ধর্ষণের শিকার শিশুটি
15-august

ঢাকা, রোববার   ১৪ আগস্ট ২০২২,   ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৫ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

আবারো মাদরাসায় পড়ার সুযোগ পেল ধর্ষণের শিকার শিশুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৭ ২৪ জানুয়ারি ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আবারো মাদরাসায় পড়ার সুযোগ পেল রাজশাহীর সেই শিশুটি। এর আগে, ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে শিশুটির ভর্তি বাতিল করেছিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকামের পর রোববার (১৩ জানুয়ারি) তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল। 

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে নগরীর হড়গ্রাম এলাকার ঐ মাদরাসায় যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারিয়া পেরেরার নেতৃত্বে একটি দল। এ সময় মাদরাসার পরিচালক হাবিবুল্লাহ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ঐ ছাত্রীকে আবারো পড়ার সুযোগ দিতে অঙ্গীকার করেন। 
 
এ সময় জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন, রাজপাড়া থানা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন: রাণীনগরে শতাধিক ইমাম ও পুরোহিত পেলেন শীতবস্ত্র
 
অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারিয়া পেরেরা জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তারা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে মাদরাসাটিতে আসেন। এ সময় শিশুটির অভিভাবক, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। মাদ্রাসাটির পরিচালক ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি ঐ শিশুকে আবারো মাদরাসায় মাদ্রাসায় পড়ার সুযোগ দিতে অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে শিশুটি যেহেতু দরিদ্র পরিবারের তাই তার মাসিক বেতনও মওকুফের কথা জানিয়েছেন।
 
ঐ শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। রেলের জমির বস্তিতে একটি ঘর করে বসবাস করেন। এক সড়ক দুর্ঘটনায় শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে গেলেও শিশুটির বাবা এখন অটোরিকশা চালান। একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়া হিসেবে চাকরি করেন শিশুর মা। 
 
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, ২০২০ সালের ২১ মার্চ তিনি ছিলেন হাসপাতালে। ওইদিন বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এক কিশোর। ধারণ করা হয় ভিডিও। ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ওই কিশোরকে আটক করে। জব্দ করা হয় মুঠোফোন। পরে এ ঘটনায় ওই বছরের ২২ মার্চ মামলা করা হয়। ওই মামলায় ওই কিশোর এখন কারাগারে।

আরো পড়ুন: ধর্ষণের শিকার, তাই শিশুকে বের করে দিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ
 
শিশুটির মা বলেন, ১০ দিন আগে রাজশাহী নগরীর উম্মাহাতুল মু’মিনীন মহিলা মাদ্রাসায় তার মেয়েকে ভর্তি করা হয়েছিল। বেসরকারি এই মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ভর্তির তিনদিন পর তার মেয়েকে মাদরাসার গেটের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেওয়া হয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে মাদরাসার পরিচালক তার মেয়েকে দূরে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে দিতে বলেন। পরে তিনি জানতে পারেন তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এ কারণে তাকে মাদ্রাসায় রাখা হচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডি

English HighlightsREAD MORE »