মাদকের থাবায় অনিশ্চিত ইবি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন 
15-august

ঢাকা, রোববার   ১৪ আগস্ট ২০২২,   ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৫ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

মাদকের থাবায় অনিশ্চিত ইবি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন 

ইবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৬ ১৯ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৮:৪৮ ১৯ জানুয়ারি ২০২২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক

বুকভরা স্বপ্ন আর আকাশসম দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন সজিব (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ ছিলো তার স্বপ্ন পূরণের সারথী। সজিবের  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পেছনের গল্পে ছিলো অনেক কষ্টের উপাখ্যান। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে সংসারের অভাব অনটনকে ছাপিয়ে অনেক কষ্টে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন সজিব।  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরে পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে  বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন তিনি। স্বপ্ন, গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে পরিবারের হাল ধরবেন। মায়ের মুখে ফোঁটাবে বিজয়ের হাসি। কিন্তু মাদকের থাবায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সজিবের এই স্বপ্ন। 

আরো পড়ুন: ‘একবার ধরবো, বাধা দিবা না’ ছাত্রীকে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক

সম্প্রতি অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন সজিব। গত একমাস থেকে তার মাঝে অস্বাভাবিক আচার-আচরণ লক্ষ্য করে তার বন্ধুরা। ক্লাস বাদ দিয়ে সকালে হল থেকে বেরিয়ে গভীর রাতে হলে ফিরতেন তিনি। কাছে মোবাইল না থাকায় তার খোঁজ নিতে পারতো না তার বন্ধুরা। গত শনিবার মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন তিনি। পরে তাকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১০৪ নম্বর কক্ষ (গণরুম) থেকে হলের গেস্টরুমে রাখা হয়। তার বন্ধুরা জানান, তিনি নিয়মিত গাজা ও ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ নিতেন। মাদক কেনার জন্য ফোনও বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি। 

অস্বাভাবিক আচরণের ফলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান তার বন্ধুরা। এসময় চিকিৎসকরা জানান, শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্যাথিডিন, নালবন ছাড়াও গাজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক গহণ করতেন তিনি। মাতাতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। একইসাথে তারা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা। 

আরো পড়ুন: লিফটে আটকে থাকে ঢাবির ক্লাস

পরে তার পরিবারকে জানালে সোমবার তার মা ক্যাম্পাসে আসেন। এসময় তার মায়ের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের বাতাস। তিনি বলেন, আমার ছেলের মেধাশক্তি খুব ভালো। সে পড়াশোনায় বরাবরই খুব ভালো ছিল। এসএসসিতে গোল্ডেন ও এইচএসসিতে জিপিএ- ৫ পেয়েছিল। ছোট বেলায় বাবা হারানোর কারণে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। ছেলেটা বাড়িতে থাকা অবস্থায় ভালোই ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর মাদকের সাথে জড়িয়ে এমন হয়েছে। আর কোনো মায়ের ছেলে যাতে এমন না হয়।

পরে বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগীতায় তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পুনর্জন্ম মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করান। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসারত আছেন। 

আরো পড়ুন: রাবিতে সিনেমাটিক স্টাইলে ছিনতাই!

ওই পূণর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক হাসান কবির শিহাব বলেন, সোমবার আসক্ত ইবি শিক্ষার্থীটি আমাদের এখানে এসেছে। নিরাময় কেন্দ্রে আসার পর সুস্থ হতে সাধারণত ৪ মাসের বেশি সময় লাগে না। তারপরেও বাকিটা রোগীর উপর নির্ভর করছে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি মাদকের বিষয়ে অবহিত হয়েছি। ইতোমধ্যে মাদক প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের প্রভোস্ট ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলেছি। এ বিষয়ে শীঘ্রই কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ 

আরো পড়ুন: কৃষ্ণচূড়ায় আর রক্তিম হবে না ইবির প্রধান ফটক

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর বিভিন্ন কক্ষে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দিনের বেলাতেও মাদকের আসর জমে। বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে এসব মাদক সরবরাহ করেন। মাদক নির্মূলে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দিনদিন বাড়ছে মাদক সেবনের হার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »