গরু-মহিষের জন্ম নিবন্ধন লাগে বাংলাদেশের যে অঞ্চলে

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২১ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

গরু-মহিষের জন্ম নিবন্ধন লাগে বাংলাদেশের যে অঞ্চলে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৫ ২০ ডিসেম্বর ২০২১  

গরু-মহিষের জন্ম নিবন্ধন লাগে বাংলাদেশের যে অঞ্চলে। প্রতীকী ছবি

গরু-মহিষের জন্ম নিবন্ধন লাগে বাংলাদেশের যে অঞ্চলে। প্রতীকী ছবি

মানবশিশু জন্ম নিলেই তার জন্ম নিবন্ধন করতে হয়। এ ব্যাপারটা আমরা সবাই জানি। তবে আমরা হয়ত অনেকেই জানি না যে, বাংলাদেশের একটি অঞ্চল রয়েছে যেখানে মানুষের মতোই জন্ম নিবন্ধন করতে হয়  গরু-মহিষের। এমনকি এসব পশু বাচ্চা জন্ম দিলে কিংবা বিক্রি করা হলেও তথ্য হালনাগাদ করতে হয়।

বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার ভারতের সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে কোনো বাসিন্দা যদি গরু বা মহিষ পালতে চান তাহলে তাকে সেইসব পশুর নিবন্ধন করতে হয়। জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে এ নিয়মেই চলে পশু পালন ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ।

প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে এই এলাকায় পশু নিবন্ধন হয়ে আসছে। গত তিন বছর ধরে এই নিয়ম বেশ জোরদার করা হয়েছে। পুরো ইউনিয়নে কী পরিমাণ গবাদিপশু আছে, কোন বাড়িতে কয়টা পশু আছে, সেটির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব বিজিবি ক্যাম্পে থাকে। ক্যাম্প কর্মকর্তারা নিয়মিত গরু মহিষের হিসাব নিয়ে থাকেন। তবে এ নিয়মের আওতায় ছাগল, ভেড়া বা খাসীর নিবন্ধন করতে হয় না।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও গোদাগাড়ী উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)।

গরু-মহিষের জন্ম নিবন্ধন লাগে বাংলাদেশের যে অঞ্চলে। প্রতীকী ছবি

জানা যায়, পার্শ্ববর্তী বিজিবি ক্যাম্প এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বারের কাছে গিয়ে পশুর মালিকদের এই কাজটি করতে হয়। নিবন্ধনের এই কাজটি সম্পন্ন করতে পশুর মালিকদের একাধিক জায়গায় যেতে হয়। অনেক নথিপত্রের কাজও রয়েছে। এ কারণে গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের দুভোর্গ পোহাতে হয়। যারা দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করেন তাদের ঝামেলা পোহাতে হয়।

মূলত সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে গরু আনা প্রতিরোধে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বিজিবি। ভারত থেকে বাংলাদেশে আগে বৈধ করিডোর দিয়ে গরু আমদানি হতো। তবে এখন তা নিষেধ। এরইমধ্যে বেড়েছে কিছু চোরাকারবারি। আবার ভারত সরকারও এ নিয়ে কড়াকড়ি হয়েছে। রাজশাহীর সঙ্গে ভারতের ৭৬ কিলোমিটার মোট সীমান্তের মধ্যে কাঁটাতার রয়েছে ১১ কিলোমিটার জায়গায়। বাকি অরক্ষিত সীমানা দিয়ে যেন গরু চোরাচালান না হতে পারে, সেজন্যই নেওয়া হয়েছে এই বাড়তি সতর্কতা।

এই ইউনিয়নের কেউ বাইরের কোনো হাট থেকে গরু কিনলে সেটা যতো দ্রুত সম্ভব নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। এজন্য পশুর মালিককে বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে নতুন কেনা পশুটির বিবরণ, যেমন: রঙ, বয়স, গড়ন, বলদ নাকি গাভী ইত্যাদি তথ্য দিতে হয়। সেই সঙ্গে হাট থেকে গরু কেনার রসিদ দেখাতে হয়। পরে বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার রেজিস্ট্রার খাতায় একটি সিরিয়াল নাম্বারে মালিকের নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বারের পাশে তার কেনা গরুর বিবরণ লিখে রাখেন। এমন একটি রেজিস্ট্রার খাতা পশুর মালিকের কাছেও থাকে। সেখানেও তথ্য তুলে রাখা হয়। মূলত এটাই নিবন্ধনের পদ্ধতি।

গরু-মহিষের জন্ম নিবন্ধন লাগে বাংলাদেশের যে অঞ্চলে। প্রতীকী ছবি

আবার এসব পশু কোন বাচ্চা জন্ম দিলে সেটারও জন্ম নিবন্ধন দ্রুততম সময়ের মধ্য করতে হয়। এজন্য মালিককে প্রথমে যেতে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে। সেখান থেকে মেম্বার এবং চেয়ারম্যান একটি প্রত্যয়নপত্রে সই করে দেন। সেই কাগজটি নিয়ে যেতে হয় বিজিবি ক্যাম্পে। সেখানকার নায়েব সুবেদার প্রত্যয়নপত্রটি দেখে দুটি রেজিস্ট্রার খাতায় তথ্য তুলে দেন।

এ ছাড়া গরু বিক্রি করতে গেলে প্রয়োজন হয় ছাড়পত্রের। বিক্রির অন্তত একদিন আগে এই ছাড়পত্র সংগৃহ করতে হয়। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে গেলে মেম্বার, চেয়ারম্যান পশুর মালিককে একটি ছাড়পত্র দেন। পরে সেখানে বিজিবি সুবেদার সই করলে পশুটি বৈধ উপায়ে বিক্রি করা যায়। আবার কোনো কারণে পশুটি বিক্রি না হলে সেটা ফিরিয়ে আনার পর সেই তথ্যও হালনাগাদ করে নিতে হবে। এই নিবন্ধন বা হালনাগাদের জন্য বাড়তি কোনো টাকা পয়সা বা পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় না।

কোনো পশুর তথ্য যদি নিবন্ধন বা হালনাগাদ না হয় তাহলে সেটি অবৈধ বলে গণ্য হয় এবং বিজিবি চাইলে অনিবন্ধিত পশুগুলো চালান করে দিতে পারে। তাই কোনো পশু নিবন্ধিত কিনা সেটা প্রমাণের জন্য পশুর মালিককে রেজিস্ট্রার খাতা কিংবা ছাড়পত্রের কপি সবসময় সঙ্গে রাখতে হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »