সুপারির বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা 
15-august

ঢাকা, রোববার   ১৪ আগস্ট ২০২২,   ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৫ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

সুপারির বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা 

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ১ নভেম্বর ২০২১  

সুপারির বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুপারির বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠি জেলায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন ভালো হলেও মধ্যম দিকে মুল্যস্ফীতিতে হতাশ ছিলেন সুপারি চাষিরা। শেষের দিকে এখন ভালো দাম পাওয়ায় সুপারি চাষিদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। 

জেলার সর্বত্র গ্রামীণ হাট-বাজারে জমে উঠেছে সুপারির ক্রয়-বিক্রয়। ক্রেতা- বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত পুরো হাট ও আশপাশের এলাকা। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম, বাউকাঠি, গুয়াচিত্রা, গাভারামচন্দ্রপুর, বিনয়কাঠি, সুগন্ধিয়া, মানপাশা, চাকলার বাজার, নথুল্লাবাদ, ছত্রকান্দা, শেখের হাট, গুয়াটন, পোনাবালিয়া, রাজাপুরের বাগড়ি, সাতুরিয়া, লেবুবুনিয়া, মীরেরহাট ও পুটিয়াখালি এবং কাঠালিয়ার জমাদ্দারহাট, বটতলা ও তালতলা বাজারে প্রায় প্রতিদিনই সুপারির জমজমাট ক্রয়-বিক্রয় চোখে পড়ছে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও দূরের পাইকাররাও বাজার করতে আসছেন এসব হাটে। মুহূর্তে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার সুপারি। তারপর ট্রাকে ভরে সুপারির বস্তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্রে। তাছাড়া সুপারি মজুদকারীরাও হাটে বাজারে ঘুরে ঘুরে ক্রয় করছেন। পুরো আয়োজনে হাজার হাজার চাষি, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে প্রতিদিন। 

অনেকটা বিনা খরচ ও বিনা পরিচর্যায় উৎপাদিত হয় বলে সুপারি চাষে এমনিতেই আগ্রহ থাকে কৃষকের। তারওপর চলতি মৌসুমের বাম্পার ফলন কৃষকের খুশি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। 

সুপারি চাষি ইউসুফ আলী বলেন, এ বছর জেলায় সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। সুপারির আকারও অনেক ভালো। তেমন কোনো খরচ বা পরিচর্যা ছাড়াই সুপারির এমন বাম্পার ফলনে স্থানীয় চাষিরা বেশ খুশি। এবার সুপারির বাম্পার ফলন হওয়ায় মধ্যম দিকে দাম কম থাকলেও এখন শেষের দিকে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। 

সাতুরিয়া এলাকার ফয়েজ হাওলাদার বলেন, এমনিতে একবার সুপারি গাছ ফলন দেওয়া শুরু করলে কয়েকযুগ ধরে তা অব্যাহত থাকে। তবে বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর সুপারির ফলন কয়েকগুণ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এমনটা হয়েছে। 

তিনি জানান, এরই মধ্যে ৫০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন। আরো ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এ জন্য গাছ থেকে সুপারি পাড়া আর হাটে নিয়ে যাওয়া ছাড়া তেমন কোনো খরচই বহন করতে হবে না তাকে। 

এদিকে পাইকাররা জানান, জেলায় এবার ভালো ফলন হওয়ায় স্থানীয় হাটগুলোতে প্রচুর সুপারি আমদানি হচ্ছে। আবার এবার সুপারির সাইজ ভালো হওয়ায় দামও ভালো উঠছে। প্রতি কুড়ি (২১০টিতে এক কুড়ি) পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে  ২৫০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায়। 

পাইকারি ব্যবসায়ী ইয়াসিন হাওলাদার জানান, বিভিন্ন হাট থেকে প্রায় প্রতিদিনই সুপারি কিনছেন। কিছু স্থানীয় বাজারের জন্য মজুদ করছেন আর কিছু দেশের বিভিন্ন স্থানের আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে তার বেশ ভালো লাভ থাকবে। 

তিনি আরো জানান, অনেক বড় পাইকার তো হাটের অপেক্ষায়ও থাকেন না, বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বাগান থেকেই সরাসরি সুপারি কিনে নিয়ে যান। 

জেলা কৃষি সম্প্রপ্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে এক হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। আশা করি, এ বছর হেক্টর প্রতি ৩ থেকে ৪ টন সুপারি ফলনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করা যাবে। পাশাপাশি লাভজনক হওয়ায় এ ফসল গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেশ ভালো অবদান রাখছে। 

তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসেবে, দিন দিন উৎপাদন বাড়ায় এ অঞ্চলের কৃষক সুপারি চাষের দিকে আগের চেয়ে অনেকটাই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি সুপারি বাগানে কোনো ঝক্কি-ঝামেলা ছড়াই লেবু, হলুদসহ বিভিন্ন ফসলও চাষ করছেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »