তরমুজের বাম্পার ফলনেও দাম চড়া 

ঢাকা, সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১২ আশ্বিন ১৪২৯,   ২৮ সফর ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

তরমুজের বাম্পার ফলনেও দাম চড়া 

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৮ ৬ মে ২০২১   আপডেট: ১৪:০১ ৬ মে ২০২১

তরমুজের বাম্পার ফলনেও দাম চড়া 

তরমুজের বাম্পার ফলনেও দাম চড়া 

গ্রীষ্মের শুরু থেকেই স্থানীয়ভাবে বাজারে আসতে শুরু করেছে তরমুজ। প্রচণ্ড তাপদাহ বাড়ার সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাস চাহিদা বাড়ে ফলটির। 

নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কমলাকান্দা এই দুই উপজেলায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও গ্রাহকের চাহিদা ও রমজানকে পুঁজি করে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটে তরমুজের দাম গিয়ে ঠেকেছে ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। 

গত বছর করোনা ও পরিবহন সমস্যার কারণে লোকসানে পড়ায় এবছর ফলটি চাষে অনেকটাই আগ্রহ হারিয়েছিলো দুই উপজেলায় অনেক কৃষকেরা। তারপরও দুই উপজেলায় এবছর প্রায় ২৫ কেজি বীজ বিক্রি করেছেন বিভিন্ন বীজ বিক্রেতা কোম্পানি। 

কোম্পানিগুলোর দেয়া তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বরের শুরু থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম সীড, মেটাল সীড, ইস্পাহানি সীড, ব্রাক সীড, ইউনাইটেড সীডসহ বিভিন্ন কোম্পানি দুর্গাপুর, কমলাকান্দা প্রায় ২৫ কেজির বেশি বিগ ড্রাগন, ট্রপিক্যাল ড্রাগন, বিগ ফ্যামিলি, ফেংবাউ, সুইট ড্রাগন, সুপার এম্পেরল জাতের বীজ তরমুজের বীজ বিক্রি হয়েছে । তবে মেটাল সীড কোম্পানির ট্রপিক্যাল ড্রাগন জাতের বীজটি বেশি বিক্রি হয়েছে। 

বিক্রি করা বীজের ১শ’ গ্রামের একটি প্যাকেট দিয়ে প্রায় ৮ কাঠা জমি চাষাবাদ সম্ভব। আর ২৫ কেজির হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২শ’ একর। তবে দুর্গাপুর ও কমলাকান্দা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলা গাঁওকান্দিয়া, কৃষ্ণপুর, ভাদুয়া, মুন্সিপাড়া, কাঁকড়াকান্দা, বিল কাঁকড়াকান্দা, কাকৈরগড়া, ঝানজাইল, চন্ডিগড়, বাকলজোড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২০ একক ও কমলাকান্দা উপজেলার পাঁচগাও, রংছাতি, কৃষ্ণপুর, বাতানিয়াপাড়া, বিশাউতি, জাগিরপাড়া, মুন্সিপুর, বড়খাপন, কান্দাপাড়া, খারনৈ, গোবিন্দপুর, পাতলাবন, ল²ীপুর, বিশ্বনাথপুর, গৌপুর সহ আরো বেশ কিছু গ্রামে প্রায় ৪৬ একর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। 

আর এই গ্রামগুেেলার প্রায় ১২০ জনের অধিক কৃষক বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ বাদ দিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে কোম্পানিগুলোর বিক্রি করা এত বীজ গেলো কোথায় ? এ প্রশ্নের কিছুটা উত্তর মিলেছে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে। তারা বলছেন সরকারি হিসাবের বাহিরেও দুর্গাপুরে প্রায় ৩৫ একর ও কমলাকান্দা প্রায় ৯৫ একর বেশি জমিতে ডিসেম্বরের শুরু থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত ফলটি বীজ বপন করে কৃষকরা। 

এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় দুই উপজেলায় তরমুজেও বাম্পার ফলন হয়েছে। চারা গাছ লাগানোর মাত্র দুই-তিন মাসের মাঝেই চলতি বছরের মার্চের শেষের থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কৃষকরা জমি থেকে তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন। কৃষকরা জমি থেকে পাইকারি দরে প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। অনেক কৃষক আবার বাজারে এনে ১শ’ থেকে ২ শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। 

উৎপাদিত তরমুজ রাজধানী শহর ঢাকাসহ নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পাইকারী দরে বিক্রি করেছে স্থানীয় কৃষকরা। তবে এত তরমুজ বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা দুটির নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে ছিলো তরমুজ। পর্যাপ্ত ফসল পেয়েও স্থানীয় চাহিদা পূরণের আগেই তরমুজ গুলো চলে গেছে বাহিরে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাজারে ফল বিক্রেতাদের দাবি স্থানীয় ভাবে চাষ করা তরমুজ বাজারে আসেনি। তাই তারা রাজশাহী, নাটোর, খুলনা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে তরমুজ স্থানীয় বাজারে আনছেন বিক্রেতারা। পরিবহন ব্যয় ও নষ্ট হওয়ার কারণে তরমুজের দাম কিছুটা বাড়তি বলেও তারা জানান। 

তরমুজের দাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সারাদেশে চলা আলোচনার মাঝেই দুর্গাপুরের বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা যায় কেজি দরে তরমুজ বিক্রি না হলেও ২শ’ টাকার নিচে মিলছে না কোনো তরমুজ। মাঝারি ও বড় সাইজের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে। তবে হঠ্যাৎ কিছু ছোট আধারে তরমুজ দেড়শ’ টাকার নিচে মিলছে। একই অবস্থা কমলাকান্দায় স্থানীয় তরমুজ শেষ হওয়ার অজুহাত দিয়ে বাহিরে তরমুজ বিক্রির নাম করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক মুনাফা লাভ করছেন বিক্রেতারা। উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো সাদ মিটাতে তরমুজের কিনলেও নিম্ন আয়ের মানুষ ধারে কাছেই যাচ্ছে না । এই এদিকে জেলা সদর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় কেজি দরে তরমুজ মত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে প্রতিদিনই বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। এই নিয়ে বাজারগুলো মনিটরিং করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। 

দুর্গাপুরের কৃষ্ণপুর গ্রামের তরমুজ চাষি হাসেম আলী ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, এ বছর তরমুজ ভালোই হইছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় আর বড় কোনো ঝড়ঝাপটা না হওয়ায় আমরা জমি থেকে ভালোই ফসল পাইছি। অনেক ক্রেতাই জমি থেকে ফসল কিনে নিয়েছে। আমরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি করছি। বাজারে নিলে হয়তো আরো বেশি দাম পাইতাম। কিন্তু জমি থেকে ফসল তুইল্লা বাজারে নিয়ে যাওয়ারও একটা খরচ আছে । তাই বেশি ঝামেলায় না গিয়ে ক্ষেত থেকে বেশি তরমুজ বিক্রি করছি। 

তরমুজ বিক্রেতা নবাব মিয়া জানান, আমরা খুলনা, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পিস হিসাবেই তরমুজ কিনে আনছি। তবে দেশের লকডাউনে কারণে তরমুজ পরিবহন করতে বেশি টাকা খরচ হয়েছে। তাছাড়া আনার সময় অনেক তরমুজ নষ্ট হইয়া যায়। তাই আমরা লোকসান তুলতে একটু দামে বিক্রি করি। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য বাজারে তেমন একটা আসে নি। দুই একজন কৃষক আনলেও তারা নিজেরাই বিক্রি করে গেছে। 

স্থানীয় তরমুজ বাজারে থাকলে তো দাম কম হয়তো। আসেনা বিধায় বাহির থেকে কিনে আনতে হয় তাই একটু দামও বেশি হয়। 

এ ব্যাপারে কমলাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক আহাম্মেদ ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, এবছর আবহাওয়া ভালো থাকায় কমলাকান্দা উপজেলা তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে । তবে কৃষকরা চাষাবাদের ব্যাপারে পরামর্শ নিলেও ফসল উৎপাদনের পর বিক্রি করার ব্যাপারে কোনো ধরনের পরামর্শ দেন না।

পরিবহন সমস্যার কারণে জমি থেকে অনেক কৃষক কমদামে ফসল বিক্রি করে দেন। আর এই ফসল নিয়ে পাইকাররা অধিক দামে শহরে বিক্রি করছে। মাঝখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরাই। আমরা বারবার এ ব্যাপারে কৃষকদের সতেচন করলেও তারা না বুঝাই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তবে কৃষকদের সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »