চট্টগ্রামে এক নারীর পরিবর্তে জেল খাটছেন আরেক নারী

ঢাকা, সোমবার   ১৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

চট্টগ্রামে এক নারীর পরিবর্তে জেল খাটছেন আরেক নারী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৩ ২ মে ২০২১   আপডেট: ২২:১৩ ২ মে ২০২১

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার (ফাইল ছবি)

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার (ফাইল ছবি)

আসামি আজাদের পরিবর্তে জেল খাটছিলেন রকি। আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীর পরিবর্তে জেল খাটছিলেন মিনু আক্তার। চট্টগ্রামে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল এ দুটি ঘটনা। সেই আলোচনার রেশ না কাটতেই ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বন্দর নগরীতে।

এবারো এক নারীর পরিবর্তে জেল খাটছেন আরেক নারী। তবে এবার চুক্তি কিংবা প্রলোভন নয়, নামের একাংশ ও স্বামীর নামে মিল থাকায় হাসিনা আক্তারের পরিবর্তে এক বছর সাড়ে চার মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন হাছিনা বেগম। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ।

জানা গেছে, কারাগারে থাকা হাছিনা বেগমের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর সদরের চৌধুরী পাড়ায়। তিনি হামিদ হোছনের স্ত্রী। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা আক্তার একই এলাকার ইসমাইল হাজীর বাড়ির হামিদ হোসেনের স্ত্রী। দু’জনের নামের একাংশ ও স্বামীর নামে মিল থাকলেও জানা গেছে অমিল রয়েছে বাবা-মায়ের নামে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরীর কর্ণফুলী থানার একটি মাদক মামলায় ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে কারাগারে যান হাসিনা আক্তার। পরে একই বছরের ২৭ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের ১ জুলাই ওই মামলায় তাকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অনাদায়ে আরো এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন অতিরিক্ত পঞ্চম মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরীর আদালত।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, সাজার আদেশের পূর্বে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৯ মাস কারাগারে ছিলেন মূল আসামি হাসিনা আক্তার। কিন্তু আদেশের পর ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন হাছিনা বেগম। কারা রেজিস্ট্রারে থাকা দু’জনের ছবিরও নেই মিল। এছাড়া হাসিনা আক্তারের সঙ্গে ছিল ছোট দুই সন্তান।

বিনা অপরাধে কারাগারে থাকা হাছিনা বেগমের ছেলে শামীম নেওয়াজ বলেন, আমার মা পান দোকান করে সংসার চালাতেন। তিন ভাইবোন ও মাকে নিয়ে সুন্দর সাজানো গোছানো ছিল আমাদের পরিবার। হঠাৎ এক রাতে টেকনাফ থানার পুলিশে এসে মাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার মায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা ছিল না। অপরাধ না করেও গত এক বছর সাড়ে চার মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি। আমি ও বড় বোন মানুষের বাড়িতে কাজ করি। ছোট বোন নানীর কাছে থাকে।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মা অসুস্থ। কিছুদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মায়ের সঙ্গে কথা হয়, মা বার বার মুক্তির বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় মায়ের মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারিনি। পরে এক ভাইয়ের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি মায়ের মুক্তির জন্য ফ্রি আইনি সহযোগিতা দিচ্ছেন।

অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, কারাগারে থাকা হাছিনা বেগম মামলার প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি নয় বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে টেকনাফ থানা। হাছিনা বেগমকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানি হয়েছে। আদালত আদেশের জন্য রেখেছেন।

আদালতে হাছিনা বেগমের প্রতিবেদন দেয়া টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. খোরশেদ আলম বলেন, বর্তমানে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে থাকা হাসিনা বেগম ও পূর্বে গ্রেফতার হওয়া হাসিনা আক্তার এক নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু হাছিনা বেগমের স্বামী পালাতক থাকায় পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা যায়নি। ওই এলাকায় হাসিনা আক্তার নামেও কারো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম