শাজাহানপুরে ব্যবসায়ীকে থানায় ডেকে লাঞ্ছিত করলেন ওসি!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

শাজাহানপুরে ব্যবসায়ীকে থানায় ডেকে লাঞ্ছিত করলেন ওসি!

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৪ ২৮ এপ্রিল ২০২১  

শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন

শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন

বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় আব্দুল খালেক নামে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক বাদী হয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। খালেক উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন রেশন ব্যবসায়ী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের রহিমাবাদ এলাকায় খালেকের জায়গা অধিগ্রহণ করে সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক)। ‘সাসেক’র নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে ওই জায়গায় থাকা স্থাপনা (বহুতল ভবন) অপসারণের কাজ শুরু করেন খালেক। কাজ চলাকালীন ঘটনাস্থলে আসেন শাজাহানপুর থানার এসআই আব্দুর রহমান। তিনি সেখানে গিয়ে খালেককে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এরপর তাকে এসআই বলেন, থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করতে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এসআই আব্দুর রহমানের কথা অনুযায়ী খালেক বেলা ১২টার দিকে থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতে যান। খালেক থানায় ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। ওই সময় তাকে দেখেই ওসি উত্তেজিত হলে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন। একপর্যায়ে খালেককে সেখান থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এ বিষয়ে  কথা হয় ভুক্তভোগী আব্দুল খালেকের সঙ্গে। তিনি বলেন, নিলাম সূত্রে আমি ওই জমির মালিক। সেখানে ‘সাসেক’র নির্দেশে স্থাপনা অপসরণের কাজ করছিলাম। সেখানে থেকে আমাকে ডেকে থানায় নিয়ে ওসি সাহেব লাঞ্ছিত করেছেন। 

জানতে চাইলে ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খালেক তার আগের স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে ভাঙচুর শুরু করেন। তার স্ত্রীর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা মিথ্যা।

খালেকের সাবেক স্ত্রীর নাম মোছা. রুবিয়া বেগম। প্রায় ৬ মাস আগে খালেকের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। রুবিয়ার বিষয়ে খালেক বলেন, আমি ‘সাসেক’র নির্দেশে আমার বাড়ি অপসারণ করছিলাম। আমার সাবেক স্ত্রী ও দুই সন্তান ওই বাড়িতেই থাকে। আমি তাদেরকে বাড়ি ছাড়তে বলেছি, কিন্তু তারা তা মানেনি।

তিনি বলেন, আমার ওই ভবনটি চার শতক জায়গার ওপর অবস্থিত এরমধ্যে এক শতক আমার নামে খারিজ করা আছে। আর বাকি তিন শতকের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে। তবে বাকি তিন শতকও আমি পাবো এটা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু আমার সাবেক স্ত্রী নিজের মালিকানা দাবি করে আসছে।

খালেক বলেন, আমি নিজে জায়গা কিনে আমার সাবেক স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছিলাম। তখন সে আমার স্ত্রী ছিল। কিন্তু সে (রুবিয়া) ওই জায়গা ব্যাংকে মর্গেজ রাখে। পরে আমি নিলাম সূত্রে জমির মালিক হয়েছি। সর্বশেষ সাসেক আমাকে ভবন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে, আমি সেটা পালন করছি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খালেকের সাবেক স্ত্রী রুবিয়া বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম