আনুশকাহকে ধর্ষণের পর হত্যা: অভিযুক্ত প্রেমিক দিহান কারাগারে 

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১০ ১৪২৮,   ১০ রমজান ১৪৪২

আনুশকাহকে ধর্ষণের পর হত্যা: অভিযুক্ত প্রেমিক দিহান কারাগারে 

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৭ ৮ জানুয়ারি ২০২১  

গ্রেফতার প্রেমিক তানভীর ইফতেখার ফারদিন দিহান- ফাইল ছবি

গ্রেফতার প্রেমিক তানভীর ইফতেখার ফারদিন দিহান- ফাইল ছবি

রাজধানীর কলাবাগানের মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকাহ নূর আমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার প্রেমিক তানভীর ইফতেখার ফারদিন দিহানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়ার পর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে দুপুর ১ টা ১০ মিনিটের দিকে আসামি তানভীর ইফতেখার ফারদিন দিহানকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে আদালতের গারদ খানায় রাখা হয়। এরপর আসামি দিহান স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ এম আসাদুজ্জামান আসামি দিহানের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদের আদালত তার এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আসামি দিহানের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পরে এ মামলায় গ্রেফতার প্রেমিক তানভীর ইফতেখার ফারদিন দিহানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত। শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদের আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে এ দিন ধার্য করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে আনুশকার বাবা মো. আল-আমিন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় ইফতেখার ফারদিন দিহানকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর কলাবাগান থানার পুলিশ তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখায়। 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর এক ঘণ্টা পরে তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এই মামলার একমাত্র আসামি ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া ছাত্র দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর মাকে জানান, মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়েছে।

অফিস থেকে বের হয়ে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা হাসপাতালে পৌঁছেন। হাসপাতালের কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তার কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি নিজেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় এসব মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ