বেবি তরমুজ চাষে সুবর্ণচরের কৃষকদের ভাগ্য বদল

ঢাকা, রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২,   ১৭ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

বেবি তরমুজ চাষে সুবর্ণচরের কৃষকদের ভাগ্য বদল

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৫ ১৪ নভেম্বর ২০২০  

তরমুজ চাষ

তরমুজ চাষ

শুধু গরমে নয়, পুষ্টি গুণ ও স্বাদে তরমুজ সবসময় সবার প্রিয়। গরমের মৌসুমে তরমুজ পাওয়া গেলেও শীত মৌসুমে তরমুজ পাওয়া যায় না। কিন্তু সে দিন এখন আর নেই। ইচ্ছে করলে এখন শীত মৌসুমেও তরমুজ পাওয়া যায়। সেটি হলো, ব্ল্যাক সুগার ও ড্রাগন জাতের বেবি তরমুজ। 

গত কয়েক বছর ধরে শীত মৌসুমে স্বল্প পরিসরে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল সুবর্ণচরে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। চলতি বছর সুবর্ণচরের কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে বেবি তরমুজের চাষ শুরু করেছেন। এতে কৃষকরা আর্থিক সম্ভাবনা দেখছেন। 

আধুনিক (মাচাং) পদ্ধতিতে বেবি তরমুজ চাষ করে সাফল্য অর্জন করে এলাকার কৃষকদের মনে আশা জাগিয়েছেন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরবাটা ইউপির চর মুজিব গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন।

স্থানীয় একটি এনজিও’র সহযোগিতায় ৮০ শতাংশ জমিতে এ (মাচাং) পদ্ধতিতে ব্লাক সুগার এবং ইয়েলো ড্রাগন জাতের বেবি তরমুজ চাষ শুরু করেন আলাউদ্দিন। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় এ জাতের তরমুজের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকায় সাফল্যের মুখ দেখেছেন তিনি।

কথা হয় বেবি তরমুজ চাষি আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় বেবি তরমুজের চাষ শুরু করেন। প্রথমে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও মাচাং পদ্ধতি এখন খুব ভালো লাগে। ৮০ শতাংশ জমিতে খরচ হয়েছে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। খরচ দেশি তরমুজ চাষের অর্ধেক এবং ফলন নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা। আনুমানিক লাখ টাকার কাছাকাছি তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান এ চাষি।

তরমুজ চাষসুবর্ণচর উপজেলার ২ নম্বর চরবাটা ইউপির চাষি মো. মিজান জানান, বেবি তরমুজ চাষে ২৫ শতাংশ জমিতে তার খরচ হয়েছে ১৫শ’ টাকা। প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৩৫-৪০ হাজার পাওয়া যাবে। সাধারণ মৌসুমে তরমুজে এ পরিমাণ জায়গায় খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। সাধারণ কৃষকদের বেবি তরমুজ চাষে উৎসাহিত করলে কৃষকরা আরো লাভবান হবেন। মিজানের পাশাপাশি সুবর্ণচরে বেবি তরমুজ চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন মো. হেলু মিয়া ও ভুলন মিয়া।

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কৃষি কর্মকর্তা শিবব্রত ভৌমিক জানান, দ্বিতীয়বারের মতো আমরা সুবর্ণচরের ইউপির মোট ছয়টি স্থানে বেবি তরমুজ চাষ শুরু করি। গতবারের চেয়ে এবারো আমরা ভালো ফলাফল পেয়েছি। আগামীতে ব্যাপক হারে এটি প্রসারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ তরমুজ সাধারণত লাল এবং হলুদ রঙের হয়ে থাকে। এটি দেশীয় তরমুজের চেয়ে অত্যাধিক মিষ্টি। এছাড়াও শীত মৌসুমের শুরুতে হওয়ায় এর চাহিদা বেশি থাকে তাই ভালো দাম পাওয়া যায়।  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম

English HighlightsREAD MORE »