ছেড়ে দিতে ২০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন আকবর

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ছেড়ে দিতে ২০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন আকবর

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৩১ ১১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ০২:৩৬ ১১ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া পুলিশের কাছে তাকে ধরিয়ে না দিয়ে ছেড়ে দিতে ২০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

সেই প্রস্তাবে রাজি হননি রহিম উদ্দিন ও তার পাঁচ সঙ্গী। শেষ পর্যন্ত খাসিয়াদের কাছ থেকে ধরে এনে তাকে সোপর্দ করা হয় পুলিশের কাছে। 

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ হত্যায় অভিযুক্ত এসআই (বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূইয়ার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কাশেম শুনানি শেষে তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার কানাইঘাট ডোনা সীমান্তে খাসিয়ারা আটক করে এসআই আকবরকে। তারা বেঁধে রেখে খবর দেয় ডোনা এলাকার রহিম উদ্দিনকে। খবর পেয়ে রহিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের স্থানীয় একটি যুবক দল ডোনাবস্তি এলাকায় যায়। সেখান থেকে আকবরকে নিয়ে আসেন তারা।

রহিম উদ্দিন জানান, খাসিয়াদের কাছ থেকে আনার সময় আকবর ২০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। পুলিশের হাতে তুলে না দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি। কিন্তু আকবরের ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি রহিম উদ্দিন ও সঙ্গী যুবকরা। রায়হান হত্যা ঘটনার প্রধান আসামিকে ধরে এনে তারা পুলিশে সোপর্দ করেন।

অন্যদিকে এসআই আকবরকে আটকের পর খাসিয়া যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে বলতে শোনা গেছে, রায়হান হত্যার পর তাকে পালানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। দুই মাস সময় পার হলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়। আকবর আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

সোমবার আকবরকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, রায়হান হত্যা মামলার তদন্ত পিবিআই করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আকবরকে পালাতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সহযোগিতা করে থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আসতে হবে।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হেফাজতে মৃত্যু আইনে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী। স্ত্রীর করা মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে