‘আবরারকে মেরে স্ট্যাম্প দুই টুকরা করে ফেলে সকাল’

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২২,   ১২ মাঘ ১৪২৮,   ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা

‘আবরারকে মেরে স্ট্যাম্প দুই টুকরা করে ফেলে সকাল’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৭ ১০ নভেম্বর ২০২০  

নিহত আবরার এবং আসামি সকাল

নিহত আবরার এবং আসামি সকাল

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। সোমবার সাক্ষ্য দিয়েছেন বুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাখাওয়াত ইকবাল অভি।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে তিনি এ সাক্ষ্য দেন। 

জবানবন্দিতে প্রত্যক্ষদর্শী অভি বলেন, ওইদিন হোসাইন মােহাম্মদ তোহা আমাকে ও সাইফুল ইসলামকে ২০১১ নম্বর রুমে যেতে বলে। তখন আমি ভয় পেয়ে যাই। কারণ এই ঘটনার আনুমানিক ৭-৮ মাস আগে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ছাদে ১৬তম ব্যাচের অমিত সাহা আমাকে সালাম না দেয়ার অপরাধে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছিল।

আরো পড়ুন: কাঠের মালা পরে ছদ্মবেশে ভারতে পালাচ্ছিল এসআই আকবর

তারপর আমি ও সাইফুল ইসলাম ২০১১ নম্বর রুমের দিকে যাই। সেখানে ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভির, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুজতবা রাফিদ, ১৭তম ব্যাচের এহতেশামুল হক তানিম, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং হােসাইন মােহাম্মদ তােয়াকে খাটে বসে থাকতে দেখি।’

ওই সময় আবরার ২০১১ নম্বর রুমের মাঝখানে দাঁড়ানাে অবস্থায় ছিল। তখন আমি ও সাইফুল ইসলাম খাটে বসি। এরপর মুনতাসির আল জেমি আবারের দুইটি মােবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে ২০১১ নম্বর রুমে প্রবেশ করে। এরপর একটি মােবাইল ইফতি মোশাররফ সকাল ও অন্য মোবাইলটি মােস্তফা রাফিদ এবং ল্যাপটপটি মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভির চেক করতে থাকে। এরমধ্যে ওই রুমে ১৭তম ব্যাচের মাের্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, সামছুল আরেফিন এবং মাজেদুর রহমান মাজেদ এবং ১৬তম ব্যাচের মুজাহিদুর রহমান প্রবেশ করে। এরইমধ্যে মােস্তফা রাফিদের সঙ্গে জেমি রুম থেকে চলে যায়।

এরপর ইফতি মােশাররফ সকাল ওই রুমে থাকা আবরারকে জেরা করতে শুরু করে। বলে যে, তুই শিবির করিস কি-না? আবরার বলে, না, আমি শিবির করি না এবং আমি কখনাে এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। এরপর রাত ৯টার দিকে ১৫তম ব্যাচের অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন এবং মেহেদী হাসান রবিন ওই রুমে প্রবেশ করে।

আরো পড়ুন: বেড়াতে গিয়ে শ্বশুর বাড়িতে শিকলবন্দি জামাই

অভি আরো বলেন, মেহেদী হাসান রবিন আবরারকে জেরা করে বলে যে, শিবির করে কি-না? আবরার বলে, না, আমি শিবির করি না। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে মেহেদী হাসান বিন আবরারের মুখে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। এরপর মােতাহুল ইসলাম জিয়ন আবরারের মুখে চড়-থাপ্পড় মারে। 

পরে ইফতি মোশাররফ সকাল আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারে এবং জেরা করে যে, সে শিবির করে কি-না? তখনো আবরার আবার বলে, আমি শিবির করি না। এ সময় ইফতি মােশাররফ সকাল ক্রিকেট স্ট্যাম্প আনতে বললে ১৭তম ব্যাচের কোনো একজন একটি ক্রিকেট স্ট্যাম্প ২০১১ নম্বর রুমে আনে। ওই স্ট্যাম্প দিয়ে ইফতি মােশাররফ সকাল আবরারের মারতে শুরু করে।

‘আসামি ইফতি মােশাররফ সকাল আবরারকে মারতে মারতে ক্রিকেট স্ট্যাম্পটি দু’টুকরা করে ফেলে। ক্রিকেট স্ট্যাম্পটি ভেঙে গেলে এহতেশামুল হক রাব্বি তানিম আরেকটি স্ট্যাম্প আনে। ওই ত্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে অনিক সরকার মারতে থাকে এবং আবরারকে বলে তুই স্বীকার কর যে, তুই শিবির করিস। এরপর আমি ভয় পেয়ে যাই। তখন আমি মনিরুজ্জামান মনিরকে বলি, ভাই আমি ভাত খেতে যাব। তখন অনুমতি পেয়ে আমি আর সাইফুল ইসলাম ২০১১ নম্বর রুম থেকে বের হয়ে যাই। এই ঘটনা কাউকে জানালে আমাকেও মারতে পারে। এজন্য আমি ঘটনা কাউকে বলি নাই।

আরো পড়ুন: যেভাবে হাসপাতালে মারা হলো এএসপিকে (ভিডিও)

এর আগে আবরার হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।

অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারনামীয় ১৯ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত এজাহারবহির্ভূত ছয়জন রয়েছেন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং এজাহারবহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস

English HighlightsREAD MORE »