আকবরের কর্মকাণ্ডে হতাশ আশুগঞ্জবাসী, অঢেল সম্পদের উৎস কি!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আকবরের কর্মকাণ্ডে হতাশ আশুগঞ্জবাসী, অঢেল সম্পদের উৎস কি!

আশুগঞ্জ ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৭ ১৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৬ ১৫ অক্টোবর ২০২০

এসআই আকবর গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল বাড়ি ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এসআই আকবর গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল বাড়ি ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূইঁয়ার কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়েছেন নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মানুষ।  

স্থানীয়রা এই ঘটনায় মর্মাহত ও সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিচার দাবি জানিয়েছেন। তবে পরিবারের দাবি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি উদঘাটন করার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা বগইর গ্রামের জাফর আলী ভূইয়ার বড় ছেলে এসআই আকবর হোসেন ভূইঁয়া। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে নিজের অবস্থান দ্বিতীয়। সবার বড় বোন। ২০০৬ সালে প্রথম কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এসআই হন আকবর। এরপরই পাল্টে যেতে থাকে আকবর ও তার পরিবারের জীবনযাত্রা।

পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের বাবা জাফর আলী ভূঁইয়া স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হন জাফর। এরপর স্কুল থেকে চাকরিচ্যুত হন তিনি। মামলায় জড়ানোর পর সহায়-সম্পদ যা ছিল তা সবই খুইয়েছেন জাফর আলী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সালে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৫ সালে উপজেলার ফিরোজ মিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন আকবর।

এসআই আকবরের আলিশান বাড়ি

পুলিশ কর্মকর্তা আকবর পালিয়ে যাওয়ার আগে সোমবার সকালে শেষ কথা হয় পরিবারের সঙ্গে। এরপর থেকেই লাপাত্তা আকবর। পুলিশে তার চাকরি হওয়ার পর বদলে যায় তার পুরো পরিবার। গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল বাড়ি। তবে তার পরিবারের দাবি এই বাড়ি স্কুল শিক্ষক বাবার পেনশন আর সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছোট ভাইয়ের টাকা দিয়ে এই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

কীভাবে আলিশান বাড়িসহ এত সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি আলোচনা এখন গ্রামের সবার মুখে। অনেকে পুলিশ কর্মকর্তা আকবর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

বগইর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পুলিশে চাকরি হওয়ার পরই অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন আকবর। এ ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং আশুগঞ্জের মানুষের জন্য কলঙ্ক। আশুগঞ্জকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য বন্দরবাজার ফাঁড়ির ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের ছোট ভাই আরিফ ভূঁইয়া বলেন, আমার ভাই এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। আমরাও চাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমার বিশ্বাস, ভাই টাকার জন্য কাউকে মারতে পারেন না।

আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বলেন, আকবরের ঘটনা পুরো আশুগঞ্জের জন্য লজ্জার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাই।

গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

রায়হান উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ, রায়হানকে ধরে এনে টাকার জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই আকবর পলাতক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে