রায়হান হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান সিসিক মেয়র

ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রায়হান হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান সিসিক মেয়র

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:০১ ১৪ অক্টোবর ২০২০  

নিহত মো. রায়হান আহমদ

নিহত মো. রায়হান আহমদ

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে মো. রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। 

রায়হানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সোমবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি জানান মেয়র।

সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আখালিয়া নিহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদের পরিবারের সঙ্গে মেয়রের সাক্ষাৎকালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। রায়হানের মা ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন মেয়র। সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধী শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করতে রায়হানের পরিবারের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, আমি এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছি। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে-এমন কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রায়হানের মৃত্যুতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ থেকে উচ্চারিত একটি স্লোগান আমাকে ছুঁয়ে গেছে। স্লোগানটি হচ্ছে ‘পুলিশ হবে রক্ষক, পুলিশ কেন ভক্ষক?’ আমাদের রক্ষক যে পুলিশ, এই আস্থা ধরে রাখতেই বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছি।’

জানা গেছে, নগরীর একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্রের চাকরিজীবী রায়হানকে গত শনিবার রাতে তুলে নিয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোরে একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে কল পেয়ে রায়হানের পরিবার ফাঁড়িতে যান। পরে হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। রায়হানের হাতের নখ ওপড়ানো, দুই পায়ে ক্ষতসহ শরীরে মারধরের চিহ্ন ছিল। ওই দিন মধ্যরাতে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলার পর সোমবার পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

সিটি মেয়রের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলেও পুলিশ তো বসে নেই। হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা নেয়া হয়েছে, চারজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম