গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, দায় স্বীকার করে কালামের জবানবন্দি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, দায় স্বীকার করে কালামের জবানবন্দি

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:১০ ১৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০৩:১১ ১৪ অক্টোবর ২০২০

দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে কালাম

দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে কালাম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আবুল কালাম।

এ মামলার তিন নম্বর আসামি আবুল কালাম। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসফিকুল হকের আদালত-১-এ জবানবন্দি দেন আবুল কালাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি গুলজার আজমেদ জুয়েল।

গুলজার আজমেদ জুয়েল বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আবুল কালামকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। সন্ধ্যায় দায় স্বীকার করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসফিকুল হকের আদালত-১-এ জবানবন্দি দেন আবুল কালাম। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

সকালে এ ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার হোসেনকে নারায়গঞ্জ কারাগার থেকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে দেলোয়ারকে পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।

পাশাপাশি মামলার সাত নম্বর আসামি শামছুদ্দিন সুমনের সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। অন্য আসামি ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের আইনজীবী জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে।

জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূর স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে দীর্ঘদিন পর বাবার বাড়িতে আসেন। রাত ৯টার দিকে শয়নকক্ষে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ছিলেন। এ সময় বাদল, রহিম, আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন, সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব, আরিফ ও রহমত উল্লাহসহ অজ্ঞাত কয়েকজন দরজা ভেঙে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তার স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন।

একপর্যায়ে তারা ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হলে তারা তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালান এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কাউকে কিছু জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ জেলা শহর মাইজদীতে বোনের বাড়ি আশ্রয় নেন।

সেখানে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে হামলাকারীরা তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত আটজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম