শান্তির অন্বেষণে নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে চায় রোহিঙ্গারা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

শান্তির অন্বেষণে নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে চায় রোহিঙ্গারা

 কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:১৬ ১২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০০:২২ ১২ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে লাগাতার অরাজক পরিস্থিতিতে আর থাকতে চায় না রোহিঙ্গারা।

সাধারণ রোহিঙ্গারা এক মুহূর্তও আর সেখানে অবস্থান করতে রাজি নয়।  যত দ্রুত সম্ভব তারা দেশে ফিরতে চায়। নতুবা শান্তির অন্বেষণে যেতে চায় নোয়াখালীর ভাসানচরে।

মিয়ানমার সেনাদের অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে দেশত্যাগী মানুষগুলোকে বাংলাদেশ সরকার এবং এদেশের জনগণ মানবিক কারণে ঠাঁই দিয়েছিল। আশ্রয় পেয়ে সেই রোহিঙ্গাদেরই একটি অংশ কিনা ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠতে শুরু করে। এক পর্যায়ে এই রোহিঙ্গারা হয়ে পড়ে বেপরোয়া।  

সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের ভয়ে তটস্থ সাধারণ রোহিঙ্গারাই এখন প্রকাশ্যে বলছে তারা নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরতে চায়। দেশে ফিরতে বিলম্ব হলে তাদের এক্ষুনি নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যেতেও দাবি জানিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। 

উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের বাসিন্দারা বলেন, আমরা মিয়ানমারের সেনাদের অত্যাচারে পালিয়ে এসেছি। এবার আমাদের স্বজাতির সন্ত্রাসীদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে চাই। আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার বিরোধিতা সত্বেও সাধারণ রোহিঙ্গারা এসব কারণে যেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে ভাসানচরে।

কুতুপালং শিবিরের লম্বাশিয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি শ্রেণী কি কারণে অস্ত্র হাতে নেয় সেটা তাদের বুঝতে কষ্ট হচ্ছে।  

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়াসহ ওষুধ পথ্যেরও কোনো অভাব নেই। দেদারছে মিলছে কাজকর্মও। অভাব নেই টাকা-পয়সারও। এমন সুখ-শান্তির মধ্যে এরকম অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি কেন করা হচ্ছে-এমন প্রশ্ন সাধারণ রোহিঙ্গাদের।

কুতুপালং নিবন্ধিত শিবিরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, করিম বাহিনী নামের সন্ত্রাসী রোহিঙ্গার দলটি আমার ১২ বছরের কিশোর সন্তান রবিউলকে অপহরণ করে নিয়েছিল। টানা ৬ দিন পর রোববার আমার বুকের ধন রবিউলকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। 

রোহিঙ্গা আমিন জানান, দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী করিমের দলে এক হাজার ২০০ জন সন্ত্রাসী রয়েছে। করিম বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে এখানকার সাধারণ রোহিঙ্গারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। করিম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা অপহরণ, খুন-খারাবি, চাঁদাবাজিসহ মুক্তিপণ বাণিজ্যেও জড়িত।  

নির্যাতিত রোহিঙ্গারা বলেন, আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের মানবিক সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। এখন অমানবিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে আবার পালাতে হচ্ছে। 

তারা বলেন, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভাসানচরসহ অন্য যেকোনো স্থানে যেতে তারা রাজি। অশান্ত কুতুপালং শিবিরে তারা আর থাকতে রাজি নয়। 

কক্সবাজারে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা জানান, রোহিঙ্গারা এমনতিইে ভাসান চরে যেতে প্রস্তুত। তবে কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদেরকে বাধা দিয়ে আসছে। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের বাধার কারণেই এতদিন সাধারণ রোহিঙ্গারা মুখ খুলছিল না।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন। 

ডিআইজি জানান, রোহিঙ্গা শিবিরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য গত শুক্রবার থেকে র‌্যাব-পুলিশ, আর্মড ব্যাটালিয়ান ও আনসার বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত অস্ত্রসহ অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে