‘আব্বু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মিন্নি’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘আব্বু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মিন্নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪০ ৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৯ ৪ অক্টোবর ২০২০

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি -ফাইল ছবি

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি -ফাইল ছবি

খুব দ্রুতই রিফাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

এর আগে, এদিন সকালে মিন্নিসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির ডেথ রেফারেন্স নথি হাইকোর্টে এসেছে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

আইনজীবীরা জানান, ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন, তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত।

ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। তবে কোনো কোনো মামলার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি করা হয়।

এক ভিডিও বার্তায় আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, মামলার কাগজপত্র সবে মাত্র পেয়েছি। আমরা শিগগিরই আপিল ফাইল করবো।

এদিকে, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে জেড আই খান পান্নার চেম্বারে আসেন। তখন তিনি বলেন, মিন্নির সঙ্গে মোবাইলে একদিন কথা হইছিল। ফিজিক্যালি দেখা হয়নি।

সেদিন তার সঙ্গে কী কথা হয়েছে- এমন প্রশ্নে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নি কিছুই বলতে পারেনি। কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে আব্বু বলার পরে আর কোনো কথাই বলতে পারেনি।

৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বাকি চারজনকে খালাস দেয়া হয়। এ রায় ঘোষণা করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মারা যান।

ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর