চাঞ্চল্যকর তথ্য: সবই ছিল মিন্নির অভিনয়, সুকৌশলে হত্যায় সহায়তা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চাঞ্চল্যকর তথ্য: সবই ছিল মিন্নির অভিনয়, সুকৌশলে হত্যায় সহায়তা

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৮ ৩ অক্টোবর ২০২০  

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের চিত্র (ইনসেটে রিফাত শরীফ ও মিন্নি)

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের চিত্র (ইনসেটে রিফাত শরীফ ও মিন্নি)

২৬ জুন, ২০১৯; রোজ বুধবার। এ দিন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শাহনেওয়াজ শরীফ ওরফে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। এ সময় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামী রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু লোক দেখানো এসব আয়োজন ছিল মিন্নির দক্ষ অভিনয়ের অংশ।

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ের কপিতে এমনটিই জানা গেছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ঘটনাস্থলে রিফাতকে কোপানোর সময় স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা ছিল মিন্নির অভিনয়। বরং সুকৌশলে রিফাতকে হত্যায় সহায়তা করেছিল সে।

৩০ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। কী আছে সেই রায়ে, কেনই-বা প্রধান সাক্ষী থেকে ফাঁসির আসামি হলেন মিন্নি, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়, রিফাত হত্যার মূল ছক আঁকেন তারই স্ত্রী মিন্নি। এ পরিকল্পনাতে সাড়া দেয় নয়ন বন্ড। পরে তারা পরামর্শ করে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করে। নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করে পরিকল্পনাটি। সেই অনুযায়ী ঘটনার দিন নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রাব্বী আকন, টিকটক হৃদয়, সিফাত, মো. হাসান ও মিন্নি পরিকল্পনা অনুযায়ী রিফাত শরীফ হত্যার প্রমাণিত ভূমিকা পালন করে। রিফাত শরীফকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী কোপানের সময় অভিনয় করছিল মিন্নি। পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিফাত শরীফ।

এতে আরো বলা হয়, ভিডিওতে দেখা যায় রিফাত ফারাজী, রাব্বী আকন, টিকটক হৃদয়, সিফাত, মো. হাসান ও মিন্নির ভূমিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার তাদের ভাবভঙ্গি-হাবভাব গতিবিধি থেকে দেখা যায় তাদের ভূমিকা বিচ্ছিন্ন ছিল না। এটা তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। রিফাত শরীফকে হত্যা করাই ছিল হত্যাকারীদের অভিন্ন উদ্দ্যেশ্য। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা তথ্য গোপন করে। তাদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পরিকল্পনার পূর্ণ চিত্র প্রতিফলিত না হওয়ায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সাক্ষ্যগত মূল্য হারায় না।

রায়ে বলা হয়, এ মামলার ভিডিও ফুটেজ দুইটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জীবন্ত সাক্ষ্য। এ সময় মিন্নির সাহায্য করার ঘটনা রক্ষা করার কৌশল মনে হলেও সে তার স্বামীকে রক্ষা করতে ঢাল না হয়ে অন্যদের দিকে নির্ভীকভাবে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেছিল। যেন হত্যাকারীদের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ পায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর