নয়ন বন্ডকে বিয়ের পর ‘কুমারী’ পরিচয়ে রিফাতকে বিয়ে করেন মিন্নি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

নয়ন বন্ডকে বিয়ের পর ‘কুমারী’ পরিচয়ে রিফাতকে বিয়ে করেন মিন্নি

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২৫ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:৪৮ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন কাজি মো. আনিচুর রহমান। তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর নয়ন বন্ডের বাসায় তার মা-বন্ধুসহ অনেকের উপস্থিতিতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মিন্নির সঙ্গে বিয়ে হয় নয়নের। এরপর রিফাত শরীফের সঙ্গে ‘কুমারী পরিচয়ে’ মিন্নির বিয়ে হয়।

২৮ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দেয়া সাক্ষ্যতে তিনি এসব তথ্য জানান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু।

কাজি আনিচুর রহমান বলেছেন, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ে আমি সম্পন্ন করি। ওইদিন নয়ন বন্ডের কয়েকজন বন্ধু আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। তখন বাসায় নয়ন বন্ডের মা এবং মিন্নিসহ অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন। নয়ন বন্ডের বাসায় বসেই পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ে দেই আমি।

তিনি আরো বলেন, বিয়ে সম্পন্ন করার পর আমি জানতে পারি মিন্নি বরগুনা পৌরসভার আবু সালেহ কমিশনারের ভাইয়ের মেয়ে। তখন আমি সালেহ কমিশনারকে আমার মোবাইল থেকে কল দিয়ে মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের খবর জানাই। তিনি আমাকে বিয়ের কথা গোপন রাখতে বলেন। এরপর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও আমাকে কল করে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করেন। এরপর আমি জানতে পারি ‘কুমারী’ পরিচয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়েছে।

কাজি আনিচুর রহমান বলেন, রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরদিন মিন্নির বাবা আমাকে ফোনে বলেন- মিন্নি ও নয়ন বন্ড আগামীকাল আপনার কাছে যাবে। আপনি তাদের ডিভোর্স করিয়ে দিয়েন। কিন্তু মিন্নির বাবার কথা অনুযায়ী ওইদিন তারা আমার কাছে আসেনি। পরদিন ফোন করে আবারো আমাকে একই কথা বলেন মিন্নির বাবা। ওইদিনও মিন্নি-নয়ন না আসায় মিন্নির বাবাকে কল দেই। তখন মিন্নির বাবা আমাকে বলেন, ওরা দুজনে কমিটমেন্ট করেছে বিয়ের কথা কাউকে জানাবে না। গোপন রাখবে। আপাতত থাক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, সাক্ষ্য দেয়ার সময় মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের কাজি মো. আনিচুর রহমান আদালতে বিয়ের রেজিস্টার বালাম উপস্থাপন করেন। এটি গ্রহণ করে আদালত। এতে বোঝা যায় মিথ্যা বলছেন মিন্নি, নয়নের সঙ্গেও বিয়ে হয়েছিল তার।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মারা যান।

ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর