ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই রোগীকে ধর্ষণ, সাক্ষী সিসিটিভি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই রোগীকে ধর্ষণ, সাক্ষী সিসিটিভি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাটুরিয়া

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাটুরিয়া

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। এ ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজই একমাত্র সাক্ষী হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা।

১১ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। অবশেষে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী তরুণীর স্বজনরা জানান, ৩ সেপ্টেম্বর জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন ওই তরুণী। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে আগের রাতে নার্সরা জানান। সেই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাসপাতালের এক যুবক তাকে বারান্দায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় অজ্ঞান হয়ে পড়লে তরুণীকে বারান্দায় ফেলে পালিয়ে যান ধর্ষক।

এদিকে, মেয়েকে বেডে না পেয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন তরুণীর মা। একপর্যায়ে বারান্দায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে দেখেন মেয়েটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তখন তিনি চিৎকার দিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকতে থাকেন। পরে নার্সরা ওই তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসককে ডেকে আনেন। পরে চিকিৎসক ভুক্তভোগী তরুণীকে অ্যাম্বুলেন্সে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠান।

তরুণীর বাবা বলেন, আমি একজন হতদরিদ্র ভ্যানচালক। হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে ধর্ষককে চেনা যাবে। আমি গরিব বলে মেয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করে মুখ বুঝে চুপ ছিলাম। এখন এ ঘটনার বিচার চাই।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশীদ জানান, ওই ঘটনায় শনিবার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাদিককে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর এমন ঘটনা যেই ঘটাক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর