যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূর চুল কেটে বেধড়ক মারধর

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূর চুল কেটে বেধড়ক মারধর

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৯ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৩৫ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

গৃহবধূ নার্গিস খাতুন

গৃহবধূ নার্গিস খাতুন

যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ি শ্বশুরের নামে লিখে না দেয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নার্গিস খাতুন নামে এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নার্গিস খাতুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্বশুর ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। এ সময় তার পাশে স্বামী শফিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন: বন্যা প্রতিরোধে হাওরে নির্মিত হচ্ছে ৮০৩ কিলোমিটার বাঁধ

নার্গিস খাতুন উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউপির মহেশপুর গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে ও একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

এ দম্পত্তি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১১ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। স্বামী শফিকুলের ইচ্ছা না থাকলেও শ্বশুড় হাবিবুর রহমান, ভাসুর জামাল ও শাহাদত যৌতুকের জন্য গৃহবধূ ও তার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় প্রায়ই তাকে নির্যাতন সইতে হতো। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়িটি লিখে দেবার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন শ্বশুরসহ তার স্বজনরা। অস্বীকার করায় শ্বশুর হাবিবুর রহমান ও দুই জা’সহ বাড়ির অন্যান্যরা তাকে মারপিট করে। একপর্যায়ে বটি দিয়ে নারগিসের চুল কেটে দেয়া হয়। 

নারগিসের স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভালোবেসে নার্গিসকে বিয়ে করার কারণেই বাবা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। এ কারণে আমাদের ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালান বাবাসহ পরিবারের অন্যান্যরা।

আরো পড়ুন: সেই দিন যেভাবে ইউএনওর ওপর হামলা চালায় রবিউল

উধুনিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, নার্গিসের শ্বশুরবাড়ির পাশে বাবা ইব্রাহিমের একটি বাড়ি রয়েছে। যৌতুক হিসেবে সেটি লিখে দেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ প্রয়োগ করছে হাবিবুর রহমান। বাড়িটি লিখে না দেয়ায় মাঝে মধ্যেই নার্গিস ও তার স্বামী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলাও দায়ের করেছিলেন হাবিবুর। এসব বিষয় নিয়ে ইউপিতে সালিশি বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু হাবিবুর কোনো বিচার মানেন না। 

উল্লাপাড়া থানার ওসি দীপক কুমার দাস বলেন, আমরা গৃহবধূ নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই গৃহবধূ হাসপাতালে রয়েছে বলে জেনেছি। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে এসে অভিযোগ করলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম