কোলের শিশু বিক্রি-নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গৃহবধূ!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

কোলের শিশু বিক্রি-নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গৃহবধূ!

দিনাজপুর  প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১০ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

স্বামীর নির্যাতনের ভয়ে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন গৃহবধূ উন্মে রুহানী রুমী

স্বামীর নির্যাতনের ভয়ে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন গৃহবধূ উন্মে রুহানী রুমী

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্বামীর নিঃসন্তান বোনের কোলের শিশুমেয়েকে লাখ টাকায় বিক্রির নির্দেশ অম্যান্য করায় তিন সন্তানের এক গৃহবধূ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতিত ওই গৃহবধূ প্রাণ রক্ষায় স্বামীর বাড়ি ছেড়ে এখন চিরিরবন্দরের হযরতপুর গ্রামে তার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। 

গৃহবধূ উন্মে রুহানী রুমীর অভিযোগ, তার স্বামীর কড়া নির্দেশ তাদের আট মাসের শিশুমেয়েকে সারাজীবনের জন্য তার বোনের (স্বামীর বোন) কাছে দত্তক দিতে হবে। এজন্য গৃহবধূকে দেয়া হবে এক লাখ টাকা। নির্দেশ মানা না হলে স্ত্রী ও সন্তানের মধ্যে যে কোনো একজনের প্রাণহানি হবে বলে গৃহবধূকে হুমকি দেয়া হয়েছে। 

ঘটনাস্থল পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউপির হয়বতপুর চৈতপুকুর গ্রাম। গ্রামের বাসিন্দা ও হয়বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাদের সর্ব কনিষ্ট শিশুমেয়েকে বিক্রির জন্য তার স্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলো। গৃহবধূ এত ছোট বয়সে নিজের সন্তানকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রায়ই তার ওপর চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন। 

ওই গৃহবধু বলেন, দুধের শিশুকন্যাকে অন্যের কাছে বিক্রি করতে স্বামীর অমানবিক চাপ ও নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি সব সন্তানদের নিয়ে সম্প্রতি বাবার বাড়িতে চলে আসি। এরপর তার স্বামী সেখানে এক লাখ টাকা নিয়ে আসে এবং সন্তানকে হস্তান্তর করতে চাপ দেয়।

স্বামীর এমন অমানবিক নির্দেশ পালন করতে অস্বীকৃতি জানালে সেখানেও তার উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। ওই শিক্ষক তার শ্বশুর-শাশুড়িকেও অকথ্য ভাষায় গালিগলাজ করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছাড়েন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষক মমিনুল ইসলাম তার বোনের ইচ্ছা পূরণ করতে গৃহবধূর ওপর চাপ দেয়। এ সময় নির্যাতিত গৃহবধূ কৌশলে পূনরায় স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে বাবার বাড়িতে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই শিক্ষক তার স্ত্রী রুমী ও সন্তানদের আনতে পূনরায় যায় তার শ্বশুরবাড়ি চিরিরবন্দরের হযরতপুর গ্রামে। এসময় নির্যাতিতা গৃহবধূ ভয়ে তার স্বামীর সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। 

ওই গৃহবধু  জানায়, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতে চায় এবং শিশু সন্তানসহ জীবনের নিরাপত্তা চায়। 

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে শিক্ষক মোমিনুল ইসলামের মা মোমেনা খাতুন তার সন্তান মোমিনুল ইসলামের ছোট দুধের শিশুকে তার নিজ মেয়ের কাছে লাখ টাকায় দত্তক রাখতে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন ও চাপ সৃষ্টির কথা অকপটে স্বীকার করেন। 

এ বিষয়ে শিক্ষক মোমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মণ্ডল বলেন, বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখেছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে তাদেরকে আইনি সহায়তা পাইয়ে দিতে আমি উদ্যোগ গ্রহণ করব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ