১৯৯৭ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখতে যেমন ছিল

ঢাকা, সোমবার   ১৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

১৯৯৭ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখতে যেমন ছিল

ফিচার ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৫ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:২৭ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৯৯৭ সালের সেন্টমার্টিন দ্বীপের তীরের চিত্র।

১৯৯৭ সালের সেন্টমার্টিন দ্বীপের তীরের চিত্র।

বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ। দেশের পর্যটন স্থানের তালিকায় দ্বীপটি অনন্য। সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান। কিন্তু আজ থেকে ২৩ বছর আগের সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখতে কেমন ছিল তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? আজ ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের সামনে ১৯৯৭ সালের সেন্টমার্টিন দ্বীপের কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো-

১৯৮৩ সালে নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন গঠিত হয়। দ্বীপবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে সাইক্লোন সেন্টারও বানানো হয়েছিল।  সেন্টমার্টিন জুড়ে একটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় ছিল।

সেন্টমার্টিন দ্বীপরে বাসিন্দাদের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল মাছ আহরণ। বাড়ির উঠানে জাল বুনা থেকে শুরু করে নানা কাজ দেখেই তা বুঝা গিয়েছিল। কোরাল, ফাইস্সা, পিতাম্বরীসহ ৭০ প্রজাতির মাছ শিকার করতেন দ্বীপের জেলেরা। শিকার করা মাছের কিছু অংশ টেকনাফে চলে যেত। আবার বিশাল অংশ শুটকি করা হতো।

সেন্টমার্টিনের মূল ভূখণ্ডের উত্তরপাড়া থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ ভূখণ্ড ছেঁড়াদিয়া। ছেঁড়াদিয়াকে পাথরের জাদুঘর বলা যায়। পানির নিচেও পাথর সয়লাব। বেলে পাথর, চুনাপাথর,কনদমারিট শিলাসহ সেইলের ওপর বেষ্টিত নানা শিলা রয়েছে।

দ্বীপের ঘাটে হাতে গোনা কয়েকটি পর্যটন বুট ছিল। আসলে এগুলো ফিশিং ট্রলার। মাছ ধরার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনী জিনিস আনা-নেয়াতে ট্রলার লাগে। জালকে অস্ত্র ও ট্রলার বাহন করে দ্বীপের বাসিন্দারা প্রাকৃতির সঙ্গে একাত্ব হয়ে জীবন পরিচালনা করা হতো।  টেকনাফ থেকে ট্রলারে করে সবধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেয়া হতো। ট্রলার দিয়ে পর্যটকদের বহনের কাজ সেই সময় থেকে শুরু হয়।

সেন্টমার্টিনের বালুকাময় তীরে আঁছড়ে পড়ে ঢেউ। আরব আর ভারত সাগর থেকে আসা উত্তাল ঢেউয়ের শব্দ পর্যটকদের মন মাতিয়ে দেয়।

দ্বীপের বালিতে সবসময় শিশুরা খেলা করতো। আর জেলেরা তাদের নৌকাকে মেরামতের জন্য তীরের বালুকে উত্তম মনে করতো। এ তীরেই শুটকি শুকানো লক্ষ্য করা গেছে।

ছেঁড়াদিয়া মূলখণ্ডে সবুজের দাপট। সেখানে কেয়া বা কেতুতির বেশ বিচরণ ছিল। এই কেয়া গাছের জন্য দ্বীপটি তার রূপকে অনেক গুণ বৃদ্ধি করেছে। সুচালো কাটায় ভরা কেয়া পাতা আর আনারসের মতো ফল দেখতে বেশ লাগে।

(ছবিগুলো প্যানারোমা ডকুমেন্টারির ভিডিও থেকে নেয়া)

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ