সাপ এমনকি আস্ত কুমিরকেও গিলে ফেলে ভয়ংকর এই পাখি
15-august

ঢাকা, বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২,   ২ ভাদ্র ১৪২৯,   ১৮ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

সাপ এমনকি আস্ত কুমিরকেও গিলে ফেলে ভয়ংকর এই পাখি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২২ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৪ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর পাখি শোবিল

ছবি: বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর পাখি শোবিল

পাখিটি দেখে যতটা নিরীহ মনে হচ্ছে। এরা কিন্তু মোটেই তেমনটা নয়। এরা বিশ্বের ভয়ংকর পাখিদের মধ্যে অন্যতম একটি। সারস প্রজাতির পাখিটির নাম শোবিল। বাংলা করলে হয় জুতাবিল। এর ঠোঁটের আকৃতির কারণেই এর নাম শোবিল। এই ঠোঁট দিয়ে কুমিরের একটি বাচ্চা খেয়ে ফেলতে পারে এরা। প্রাপ্তবয়স্করা মূলত ধূসর এবং বাদামী।    

বিশ্বের সব জায়গায় এর দেখা মেলে না। প্রাচীন মিশরীয় এবং আরব দেশে ১৯ শতাব্দী পর্যন্ত এই পাখির বিচরন ছিল। তবে এরপর ইউরোপে এই পাখি নিয়ে আসা হয়। ১৮৫০ সালে জন গোল্ড এটির গবেষণা করেছিলেন। তিনি এই পাখির নাম দেন ব্যালেনিসেপস রেক্স।ইউরোপ ছাড়াও এটি দক্ষিণ সুদান থেকে বড় জলাভূমিতে গ্রীষ্মমন্ডলীয় পূর্ব আফ্রিকাতে এবং জাম্বিয়াতে এটি দেখা যায়। এছাড়াও পূর্ব কঙ্গো , রুয়ান্ডা , উগান্ডা, পশ্চিম তানজানিয়া,  কেনিয়া , মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের উত্তর ক্যামেরুন, দক্ষিণ-পশ্চিমে,থিওপিয়া , মালাউইয়ের গভীর জঙ্গল এবং জলাশয়ের কাছাকাছি দেখা পাওয়া যায় এদের।প্রাচীন মিশরের গবেষকরা এই পাখির জীবাশ্ম পেয়েছেন তাদের বিভিন্ন গবেষণায়। অনেক বিশেষজ্ঞের দাবি, আফ্রিকান ইরেমোপেজাসের সমগোত্রীয়।

এদের ঠোঁট খুবই ধারালো হয় আরো পড়ন: কুমিরের পূর্বপুরুষরা হেঁটেছিল দুই পায়ে!       
 
শোবিল একটি পাখির উচ্চতা ১১০ থেকে ১৪০ সেমি বা ৪৩ থেকে ৫৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিছু আবার ১৫২ সেন্টিমিটার বা ৬০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। ওজন ৪ থেকে ৭ কেজি। তবে পুরুষ পাখির ওজন গড়ে প্রায় সাড়ে ছয় কেজির মতো হয়। প্রাপ্তবয়স্ক একটি পাখি দেখেতে নীল-ধূসর আবার ধূসর বাদামীও হয়। তবে বাচ্চা পাখির রং থাকে রূপালী-ধূসর। বাচ্চাগুলো ২৩ দিন বয়স হলেই বেশ বড় আঁকার ধারণ করে। ৪৩ দিনে একেবারে পূর্ণবয়স্ক।

কুমিরের বাচ্চা চোখের পলকেই খেয়ে ফেলতে পারে একটি শোবিল সাধারণত জলাশয়ের ধারে এদের দেশি দেখা যায়। প্রধান খাদ্য জলজ প্রাণী। টিকটিকি, মাছ, সাপ এমনকি কুমিরের বাচ্চাও নিমিষেই খেয়ে ফেলতে পারে। কাদা-পানির মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে হয়তো পাখির মূর্তি। যখনই কুমির রোদ পোহাতে কিংবা সাঁতার কেটে কিনারায় এসেছে। অমনি ছোঁ মেরে নিয়ে চলে যায় শোবিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে শেষ করে ফেলে কুমির। বেশ ধৈর্যশীল পাখিও বলা যায় এদের। এছাড়া বড়মাছ এদের প্রিয় খাবার। খুবই হিংস্র প্রকৃতি এদের স্বভাব। ঠোঁটের মতো পায়ের নখ এবং পাতা উভয়ই বেশ ধারালো এদের।

মানুষের সঙ্গে তাদের খুব ভাব তবে মানুষের সঙ্গে এদের বেশ ভাব। এই প্রজাতিটি পাখির বাচ্চাদের দ্বারা আফ্রিকার পাঁচটি পছন্দসই পাখির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়। যদিও অন্যান্য দেশের মানুষেরা কেউ একে বাড়িতে পোষার দুঃসাহস করবে না।      

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে

English HighlightsREAD MORE »