বর্ষায় পর্যটক টানছে হাওর পাড়ের বিথঙ্গল আখড়া

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

বর্ষায় পর্যটক টানছে হাওর পাড়ের বিথঙ্গল আখড়া

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৪ ২৬ আগস্ট ২০২০  

হবিগঞ্জের প্রাচীন বিথঙ্গল আখড়া

হবিগঞ্জের প্রাচীন বিথঙ্গল আখড়া

বর্ষা মৌসুম এলেই পর্যটক বেড়ে যায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিথঙ্গল আখড়ায়। এই সময়টা পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে আখড়া প্রাঙ্গণ। বর্ষার পানিতে টইটম্বুর হাওরের মধ্য দিয়ে নৌকা নিয়ে আখড়ায় যেতে যেতে মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখতে থাকেন দর্শনার্থীরা। হাওর পাড়ের গ্রামগুলো দেখলে মনে হয় যেন সুবিশাল সাগরের মাঝখানে ভাসছে এক একটি দ্বীপ।

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ আখড়া দেখতে সিলেট বিভাগসহ সারাদেশ থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। বানিয়াচং সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের বিথঙ্গল গ্রামে অবস্থিত এ আখড়ার জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কার করায় জৌলুস বেড়েছে বহুগুণ। নৌপথা যাতায়ত ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিন শহরতলীর কালারডুবা ঘাট থেকে ডজনখানেক নৌকা ছেড়ে যাচ্ছে বিথঙ্গল আখড়ার উদ্দেশে।

রাম প্রদাস নামে এক পর্যটক বলেন, বিথঙ্গল আখড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য হলেও এটা এখন ভাটি অঞ্চলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে আখড়াটি দেখতে প্রতিদিন শত-শত মানুষ এখানে ভিড় জমাচ্ছেন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয় বিথঙ্গল আখড়া

পর্যটক রাসেল মাহমুদ বলেন, আখড়াটি দেখতে খুব সুন্দর। এখানে এলে প্রাচীনকালের কারু-কার্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে স্যানিটাইজেশনসহ কিছু অসুবিধা রয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নজর দিলে পর্যটক আরো বাড়বে।

বিথঙ্গল আখড়ার সুকুমার দাস মন্ত্র গোস্বামী জানান, পাঁচ শতাধিক বছরের পুরোনো এ নিদর্শনটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজনের সমাগম ঘটে। এছাড়াও হিন্দু ধর্মবলম্বীদের প্রতিটি পুজা এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, উপমহাদেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান সফর শেষে ষোড়শ শতাব্দীতে হাওর পাড়ের এ গ্রামে এসে আখড়াটি প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ গোস্বামী। বিশাল এ আখড়ায় কক্ষ আছে ১২০টি। আগে এসব কক্ষে অসংখ্য বৈষ্ণব থাকতেন। তবে বর্তমানে মাত্র চারজন বৈষ্ণব বসবাস করছেন।

রামকৃষ্ণ গোস্বামী হবিগঞ্জের রিচি পরগনার বাসিন্দা ছিলেন। বাংলা ১০৫৯ সনে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গোস্বামীর দেহত্যাগের পর আখড়ায় তার সমাধিস্থলের উপর একটি সুদৃশ্য মঠ নির্মাণ করা হয়। মঠের সামনে একটি নাট মন্দির, পূর্বপাশে একটি ভান্ডার ঘর, দক্ষিণে একটি ভোগ মন্দির ও কয়েকটি পুরাতন ইমারত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর