সালিশে তালাকের রায় শুনেই গৃহবধূর আত্মহত্যা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

সালিশে তালাকের রায় শুনেই গৃহবধূর আত্মহত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৭ ২৫ আগস্ট ২০২০  

পারভিন আক্তার (ফাইল ফটো)

পারভিন আক্তার (ফাইল ফটো)

প্রথমে প্রেম। তার পর পরিণয়। পরে বিচারকদের বিয়ে বিচ্ছেদের চাপ। কিন্তু তা মানতে পারেনি গৃহবধূ। পরে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন। নরসিংদীর মাধবদীর সাগরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিষ পান করে আত্মহত্যা করা গৃহবধূর নাম পারভিন আক্তার। সে মাধবদী থানার পাইকারচর ইউপির সাগরদী গ্রামের সাইদ মিয়ার মেয়ে ও একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী।

গৃহবধূর বাবা সাইদ মিয়ার অভিযোগ করে বলেন, বিচারকরা এক পক্ষের হয়ে কাজ করেছে। তাদের চাপিয়ে দেয়া সিদান্তের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় প্রেমের পর পাইকারচর ইউপির সাগরদী গ্রামের সাইদ মিয়ার মেয়ের বিয়ে হয় একই গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জের ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পকের অবনতি ঘটে। পরে সেটা সালিশ পযর্ন্ত গড়ায়। এর জেরে সোমবার উভয়পক্ষকে নিয়ে পাইকাচর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমসহ এলাকার মাতব্বররা সালিশে বসেন। তবে সালিশে উপস্থিত হয়নি গৃহবধূ পারভিন। তার বাবা সাইদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন। পরে স্বামীর পক্ষের কথা শুনে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদান্ত দেয় বিচারকরা। বিয়ের কাবিন নামা এক লাখ ৫০ হাজার টাকার কথা থাকলেও সালিশে মাত্র ২০ হাজার টাকা মেয়ের বাবাকে দিয়ে বিয়ে বিচ্ছেদের প্রস্তাব দেন বিচারকরা। কিন্তু এ রায় মানেননি পারভিনের বাবা।

পরে এই খবর শুনে মনের দুঃখে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন চার সন্তনের জননি পারভিন আক্তার। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

গৃহবধূর ভাই কাউছার মিয়া বলেন, সালিশে মাতব্বরদের চাপেই কারণেই জামাই আমার বোনকে তালাক দিতে রাজি হয়েছে। সালিশে আমার বোনকে না রেখেই তারা নিজের ইচ্ছা মতো রায় দিয়েছে। যেখানে কাবিন আছে দেড় লাখ টাকার আর তারা রায় দিয়েছে ২০ হাজার টাকা। এই কারণেই অপমানে ও ক্ষোভে সে বিষ পান করে আত্বহত্যা করে।

সাইদ মিয়া বলেন, ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত দেয় বিচারকরা। টাকা দিয়ে আমি কি করবো? বিচারকদের চাপিয়ে দেয়া সিদান্তের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

পাইকাচর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাহাঙ্গীর দুইটি বউকে নিয়ে ঠিকমতো সংসার চালাতে পারে না। এজন্য সে সালিশে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিনকে তালাক দিবে বলে জানায়। কিন্তু পারভিন এখানে উপস্থিত না থাকায় কোনো রায় হয়নি। আর জরিমানার ব্যাপারে একেকজন একেক কথা বললে ও কোনো টাকা নির্ধারণ করা হয়নি। আর সালিশে তালাক দেয়ার জন্য কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

মাদবদী থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান বলেন,একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। পরে জানতে পেরেছি এর আগে স্থানীয়রা উভয়পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক করেছে। তবে এখন পযর্ন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ