কি নিয়ে কাজ করছিলেন সিনহা? 

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

কি নিয়ে কাজ করছিলেন সিনহা? 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩১ ১১ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনার দিন হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্ট থেকে তার সঙ্গী শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নূরকে ধরে নিয়ে যায় রামু থানার পুলিশ। তাদের সঙ্গে থাকা কম্পিউটার, হার্ডডিস্কসহ মালামাল জব্দ ও পাঁচ বোতল মদ উদ্ধার দেখানো হয়। রামু থানায় মাদক মামলায় পরদিনই শিপ্রাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর দুইদিন থানায় আটকে রাখা হয় তাহসিনকে। 

কি হয়েছিল সেদিন? জানিয়েছেন তাহসিন রিফাত নূর। তিনি বলেন, তখন আমার রুমে তল্লাশি চলছিল। আমি পুলিশের সঙ্গে আমার রুমেই ছিলাম। এরপর আমরা লাশ রিসিভ ও সিফাতের সঙ্গে মিট করার ইন্টেনশন নিয়ে বের হই। ভাবিনি আমাদের অন্য থানায় নিয়ে রাখা হবে। ভোরের দিকে রামু থানায় আমাকে ও শিপ্রাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষার পর আমরা কক্সবাজারের এসপির কার্যালয়ে আসি। সেখান থেকে রাতের দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং শিপ্রাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

চারজনের টিম নিয়ে এক মাস ধরে আসলে কি করছিলেন সিনহা? তাহসিন বলেন, ইয়াবা নিয়ে কাজ করছিলেন মেজর সিনহা- এ তথ্য মিথ্যা। ঘটনার দিন পাহাড়ের ছবি তোলার কাজ করছিলেন সিনহা ভাই ও সিফাত।

তিনি বলেন, আমরা একটা ইউটিউব প্রজেক্টে কাজ করছিলাম। অনেকটা ট্রাভেল ভিডিওর মতো। আমরা বেশ কিছু ভিডিও বানিয়ে ফেলেছিলাম। আরো ভিডিও বানানোর পর একটা একটা করে আপলোড দেয়া শুরু করবো। ওইদিন সিফাত ও সিনহা ভাই পাহাড়ের উপর থেকে টাইমলেস নিতে ক্যামেরা নিয়ে বের হয়েছিলেন। 

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর পর তার কাছ থেকে ইয়াবা-গাঁজা উদ্ধার দেখায় পুলিশ। তাহসিন জানান, এক মাসে কখনো তাকে এসব মাদক নিতে দেখেননি তিনি। মাদক নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের কোনো আগ্রহ ছিল না। 

তাহসিন আরো জানান, ঘটনার দিন তাদের রিসোর্ট থেকে দুটি কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক ও ক্যামেরার সরঞ্জাম নিয়ে যায় পুলিশ। অথচ পুলিশের জব্দ তালিকায় সেগুলোর কিছুই উল্লেখ নেই।

ঠিক ঈদের আগের দিন ছেলে এমন ঝামেলায় পড়বে তা স্বপ্নেও ভাবেনি তাহসিনের পরিবার। এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তারা। মা-বাবার আশা, সুষ্ঠ তদন্ত হলে তাহসিন ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

তাহসিনের মা হাফিজা খাতুন বলেন, এদের আমি চিনতাম, জানতাম। এদের সম্পর্কে তাহসিনের বাবা ভালো কথা বলতেন। সিনহা ভাইয়ের হাই পারসোনালিটির কথা সম্পর্কেও কথা বলতেন তিনি।

তাহসিনের বাবা নুরুল হুদা বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মতো একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগে পেয়েছিলো আমার ছেলে। কিন্তু সেই সুযোগটা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারলো না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস