মুক্তিযোদ্ধার কবরের জায়গা বিক্রি, সংরক্ষণে ফিরিয়ে দিলেন ভাই-বোন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

মুক্তিযোদ্ধার কবরের জায়গা বিক্রি, সংরক্ষণে ফিরিয়ে দিলেন ভাই-বোন

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৫ ২০ জুলাই ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার তপু ও শাহনাজকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশংসার শেষ নেই। তারা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা শুধু জীবদ্দশায়ই সম্মানের পাত্র নন, মৃত্যুর পরেও তাদের সেই সম্মান অক্ষুন্ন থাকবে। এটাই সবার কাম্য হওয়া উচিত। এই ভাই-বোন বিক্রি হয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেনের কবর উদ্ধার করে তা সংরক্ষণের জন্য জমি দানপত্র করে দিয়েছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব বেজগ্রাম এলাকার মফিকুল ইসলামের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম তপু ও মেয়ে মেহেনাজ পারভীন মিম। তপু হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আর মিম কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী।

উপজেলা কেতকী বাড়িতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন। তিনি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। প্রায় ২৪ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন মারা যান। সে সময় তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবাবের কাছে হস্তান্তর করেন। লিয়াকত হোসেনের কোনো নিজস্ব জমি না থাকায় এলাকার মফিকুল ইসলামের পরিত্যক্ত জমিতে তাকে দাফন করা হয়। এরপর লিয়াকত হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন শুরু করে। মেয়েটির অনেক কষ্টে বিয়ে দেয়। বর্তমানে ছেলে দুটির একটি ভ্যান চালায়, অপর একজন সবজির দোকান করেন। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেনের কবর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কবরের কোনো চিহ্ন ও ওই জমির উত্তরসূরিরা বিষয়টি অবগত না থাকায় জমিটি বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে জমির উত্তরসূরী মফিকুল ইসলামের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম তপু ও মেয়ে মেহেনাজ পারভীন মিম বিষয়টি জানতে পেরে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ডেকে জমিটি দানপত্র করে দেয়।

মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীকে হত্যা করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় অন্যের জমিতে তাকে দাফন করা হয়। সেই জমিটি বিক্রি হয়ে যায়। পরে জমির উত্তরসূরি তপু ও মিম বিষয়টি জানতে পেরে আমাদের ডেকে জমিটি দানপত্র করে দিয়েছেন। আমি দোয়া করি আল্লাহ তাদের মঙ্গল করবেন।

এ বিষয়ে তৌফিকুল ইসলাম তপু বলেন, আমরা জানতান না এখানে মুক্তিযোদ্ধার কবর ছিলো। পরবর্তীতে জানতে পেরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান সোহেল ভাইয়ের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে জমিটি দানপত্র করে দেই।

এ বিষয়ে মেহেনাজ পারভীন মিম বলেন, যাদের কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আর সেই মানুষ আমার জমিতে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন। আগে জানলে আমি অনেক আগেই কবর সংরক্ষণের জন্য ওই জমি দিয়ে দিতাম।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার ফজলুল হক বলেন, ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও জীবিত ও মৃত মুক্তিযোদ্ধা অনেকেই আজ অবহেলিত। আমি চাই এই সরকার মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করবেন। 

ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই যারা লিয়াকত হোসেনের কবর সংরক্ষণে জমি দান করলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ