রাস্তায় বসা গৃহবধূর লাশ, পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

রাস্তায় বসা গৃহবধূর লাশ, পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২২ ২০ জুন ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৯ ২০ জুন ২০২০

রোজিনা খাতুন

রোজিনা খাতুন

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রোজিনা খাতুন নামে এ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রোজিনার পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার গুডুম্বা পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে রোজীনার স্বামী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন। 

আক্কেলপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

গুডুম্বা পূর্বপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনে তৃতীয় মেয়ে রোজিনা খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার হড়িসারা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর বিবাহিত ছেলে মেহেদী হাসানের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। এক পর্যায়ে মেহেদী গত ১৬ ডিসেম্বর রোজিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রোজিনা তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করতেন। সকালে রোজিনার বাবার বাড়ির পাশের সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

রোজিনার বাবা মকবুল হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকে মেয়ে আমার বাড়িতেই থাকতো। সন্ধ্যায় জামাই আমার বাড়িতে এসে বলে রোজিনা কোথায়? তখন আমি বলি রোজিনা তো সকালে টাকা তুলতে গেছে। আর জামাই বলে রোজিনা তো আক্কেলপুরে গেছে, আর এই আসায় আমার শেষ আসা আপনাদের বাড়িতে। 

শনিবারে তালাকের কাগজ আপনাদের বাড়িতে পৌছে যাবে, এই বলে জামাই চলে যায়। এর পর রাতে মেয়েকে নিয়ে সবাই আমরা ঘুমিয়ে যাই। রোজিনা তার ছোট ভাইকে নিয়ে আলাদা ঘরে ঘুমায়। রাত তিনটার দিকে বাড়ির পাশে রাস্তায় একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। এর পর রোজিনাকে ওই গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। ভোরে আমাদের বাড়ির পাশের সড়কে রোজিনাকে বসে থাকা দেখতে পান আমার চাচাতো ভাই লেজন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি রোজিনাকে হত্যা করে মরদেহ সেখানে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

আক্কেলপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ বলেন, রোজিনা মেহেদী হাসানের দ্বিতীয় স্ত্রী। মেহেদীর প্রথম স্ত্রীসহ সন্তান আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে অন্য কোথাও হত্যা করে তার বাবার বাড়ির পাশে ফেলে চলে গেছে। রোজিনার পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে