ডিএসসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি দূর করতে মেয়রের হুঁশিয়ারি 

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

ডিএসসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি দূর করতে মেয়রের হুঁশিয়ারি 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৪ ১৪ জুন ২০২০   আপডেট: ১৬:১৬ ১৪ জুন ২০২০

বক্তব্য রাখছেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বক্তব্য রাখছেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কোনো কাজে গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুঁশিয়ার করেছেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। 

রোববার রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বটতলা ঝিল পরিষ্কার কার্যক্রম উদ্বোধনকালে ডিএসসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই হুঁশিয়ারি দেন ডিএসসিসি মেয়র তাপস।

তিনি বলেন, মশার যন্ত্রণা, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য সংগ্রহে অপ্রতুলতা এবং এ রকম আরো অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর পরিপূর্ণ সমাধান হয়নি। এর মূল কারণ ডিএসসিসি সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব। আমি সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টগুলোকে নতুন করে কর্ম পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে এবং সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছি।

ডিএসসিসি মেয়র তাপস বলেন, আমরা বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিএসসিসির যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোনো ধরনের অবহেলা এবং গাফিলতি সহ্য করা হবে না। 

তিনি বলেন, আমি নগরবাসীকে এসব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে চাই। তাই নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে আমি ডিএসসিসির সম্মানিত নাগরিকদের অনুরোধ করব, আপনারা আমাকে জানান। আমি আপনাদের এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই, সব ত্রুটি-বিচ্যুতির বিরুদ্ধে আমার কঠিনতম অবস্থান বজায় থাকবে। 

এ সময় শেখ  ফজলে নূর তাপস বলেন, সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ আমরা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১০টি অঞ্চলের ১০টি জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করছি। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম প্রতিটি ওয়ার্ডে বছরব্যাপী পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা মশার প্রজনন এবং বিস্তার রোধ করতে পারব।

নতুন কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এরইমধ্যে আমরা ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড এবং ফগিং কার্যক্রম শুরু করেছি। ৮ জন মশক শ্রমিক সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইড কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং দুপুর ২টা ৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১০ জন শ্রমিক ফগিং কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। আমাদের স্থানীয় কাউন্সিলররা এই কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন। 

ডিএসসিসি মেয়র আরো বলেন, আগামী রোববার থেকে আমরা নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করব। এই কার্যক্রম পরবর্তী সময়ে আমরা মাছ চাষ বিশেষত তেলাপিয়া মাছ এবং জলাশয়গুলোতে হাঁস অবমুক্ত করব, যাতে করে সেসব জলাশয়ে মশার লার্ভা ধ্বংস এবং পানির প্রবাহ নিয়মিত থাকে।

এদিকে বটতলা ঝিলের পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সেখানে মাছ অবমুক্ত করেন তাপস। পরবর্তীতে তিনি রমনা পার্কে আলাদা আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সেখানেও তিনি দুর্নীতি এবং অবহেলার বিরুদ্ধে আবারো সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। পরে মেয়র রমনা পার্কে হাঁস অবমুক্ত করেন।

এ সময় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, ডিএসসিসির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) মো. শরীফ আহমেদ, সচিব আকরামুজ্জামান এবং স্থানীয় কাউন্সিলরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, গত ৭ জুন বছরব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/জেডআর