স্ত্রীকে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজান স্বামী

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

স্ত্রীকে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজান স্বামী

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:১৮ ২০ এপ্রিল ২০২০  

জুয়েল রানা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

জুয়েল রানা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পূর্ব মালশাদহ গ্রামের গৃহবধূ চম্পা খাতুন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী চম্পা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজিয়ে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন স্বামী জুয়েল রানা। রোববার সন্ধ্যায় মেহেরপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন রেজার খাস কামরায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী জুয়েল রানা।

গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে জুয়েল রানাকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। 

গত ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতে নিজ বাড়ির পাশে চম্পা খাতুনের মরদেহ ও অদূরে আহত অবস্থায় স্বামী জুয়েল রানাকে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। ওই রাতেই গাংনী থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয় এবং আহত জুয়েল রানাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। জুয়েল রানা ও তার পরিবার ডাকাতের হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দাবি করলেও পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসে।
 
জুয়েল রানার স্বীকারোক্তির বরাতে ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, জুয়েল রানা তার মা ও স্ত্রীর নামে একটি এনজিও থেকে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরকে দেন। ওই টাকা শ্বশুর সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েল রানার বিরোধ শুরু হয়। এর জের ধরে গত ১৪ এপ্রিল নিজ ঘরে ঘুমন্ত স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন জুয়েল রানা। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে মৃত স্ত্রী ও নিজের মাথায় হাসুয়া (দেশীয় অস্ত্র) দিয়ে কোপ দিয়ে ডাকাতের হামলা বলে প্রচার করেন।
 
ওসি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের পরদিন চম্পা খাতুনের পিতা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আহত জুয়েল রানা চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে আত্মগোপনে যান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে জুয়েল রানাকে গ্রেফতার করেন।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়না ও হাসুয়া উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তির পর আদালতে একই স্বীকারোক্তি দেয় জুয়েল রানা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম