৩৩ বছর পর পরিবার খুঁজে পেলেন হারিয়ে যাওয়া মুন্নি

ঢাকা, সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৫ ১৪২৭,   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৩৩ বছর পর পরিবার খুঁজে পেলেন হারিয়ে যাওয়া মুন্নি

নাটোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৬ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাত বছরের হারিয়ে যাওয়া শিশু মুন্নি তিন যুগ পর পরিবারের কাছে ফিরে এলো। ৩৩ বছর আগে লালপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায় মুন্নি। সেই মুন্নিকে ২৫ জানুয়ারি ফিরে পেয়েছে তার পরিবার।

নাটোরের বাগাতিপাড়ার পাকা ইউপির সলইপাড়া গ্রামের মুনছের আলী ও নাজমা বেগমের মেয়ে মুন্নি। ১৯৮৬ সালে পার্শ্ববর্তী লালপুরের আব্দুলপুর মিলকিপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায় ৭ বছরের শিশু মুন্নি। তখন থেকেই শিশু মুন্নিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি তার পরিবার।

কিছুদিন আগে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মুন্নির খোঁজ পান তার পরিবার। চোখের পাতার নিচে তিল, হাতে পোড়া দাগ দেখে মাসহ আত্মীয় স্বজনরা মুন্নিই যে তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে সেটা শনাক্ত করেন। 

মুন্নি জানান, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আমার মা ও পরিবার আমার চোখের পাতার নিচে তিল হাতে পোড়া দাগ এবং কপালে দাগ দেখে আমিই যে তাদের হারিয়ে যাওয়া মুন্নি সেটা প্রমাণ করেছে। আমি আমার পরিবারকে পেয়ে আনন্দিত, অনেক খুশি।

মুন্নির মা নাজমা বেগম বলেন, আমার সন্তানকে পেয়ে আমিসহ আমার পরিবার অনেক খুশি। 

জানা গেছে, হারিয়ে যাওয়ার পর শিশু মুন্নিকে নাটোরের লালপুরের গোপালপুর স্কুলের পাশে নির্জনে বসে থাকতে দেখে স্থানীয় একজন। এরপর তাকে নিয়ে যান এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে। গোপালপুরের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুদ্দিন আহম্মেদ সাধু শিশু মুন্নির দায়িত্ব নেন এবং নাম রাখেন আছিয়া। 

এরপর তাকে লালন-পালন করেন। শিশু আছিয়া বড় হলে সোনালী ব্যাংকে কর্মরত একই এলাকার বাহার উদ্দিনের ছেলে আমিরুলের সঙ্গে বিয়ে দেন। এখন দুই ছেলে আর স্বামী নিয়ে সংসার মুন্নির। 

মুন্নির স্বামী আমিরুল জানান, আমার স্ত্রী তার পরিবারের সন্ধান না পেয়ে, অনেক কষ্টে ছিল। এখন তার চোখে মুখে আনন্দ দেখে আমি অনেক খুশি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস