Alexa বহুধাবিভক্ত বিএনপি

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

রাজশাহী-দূর্গাপুর

বহুধাবিভক্ত বিএনপি

ফাতিন ইশরাক নিয়ন, রাজশাহী

ডেইলি-বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০৫:০৩ পিএম, ২২ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহীর দূর্গাপুর-পুঠিয়া উপজেলায় জমে উঠেছে বিএনপির রাজনীতি। নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য আগামী জাতীয় নির্বাচন। দূর্গাপুর-পুঠিয়ায় (রাজশাহী-৫) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন দলের অন্তত হাফ ডজন নেতা। বিএনপি  নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা  চুড়ান্ত না হলেও ভোটের মাঠে নেমেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বিশেষ করে নিজের পক্ষে সমর্থন পেতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তৃণমূলে।

৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা। ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এলাকা ছাড়েন তিনি। ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নাদিমের স্থলে মনোনয়ন দেওয়া হয় পুঠিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মণ্ডলকে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে নজরুল ইসলাম পরাজিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নাদিম মোস্তফা ও নজরুল ইসলাম মণ্ডল দলের মনোনয়ন চাইবেন।

তারা ছাড়াও মনোনয়ন চাইবেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, দূর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম সাকলাইন, পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জুম্মা ও দূর্গাপুর পৌর সভার সাবেক মেয়র সাইদুর রহমান মন্টু।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্রমতে, একসময় রাজশাহীর প্রভাবশালী ও পুঠিয়া-দুর্গাপুরে ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা ছিলেন নাদিম মোস্তফা। তত্বাবধায়ক সরকারের সময়কাল থেকে তিনি এলাকা ছাড়া। ফলে নাদিম মোস্তফার অবর্তমানে দলের প্রার্থী করার মতো তেমন কোনো নেতাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না ২০০৮ সালের নির্বাচনে।এ পরিপ্রেক্ষিতেই নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।গত ১০ বছর ধরে নাদিম মোস্তফা আর এলাকায় ঢুকতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে  একাধিক নেতা দাবি করেন, এবার নতুন মুখ না এলে নির্বাচনে জয় পাওয়া বিএনপির জন্য কঠিন হবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বহুধাবিভক্ত নেতাকর্মীদের এক জায়গায় করা নাদিম মোস্তফা ও নজরুল ইসলামের জন্য কঠিন।

সূত্রমতে, গত ১৪ নভেম্বর মনোনয়নপ্রত্যাশী, আবু বকর সিদ্দিক, গোলাম সাকলাইন ও পুঠিয়ার প্রবীণ বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপির ১০-১২ জন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে এ আসনের বিএনপির চিত্র তুলে ধরেন আবু বকর সিদ্দিক। এসময় জেলা কমিটি থেকে পুঠিয়া-দূর্গাপুরের ১২নেতাকে বাদ দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে নাদিম মোস্তফাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়ার জন্য চেয়ারপার্সনের কাছে দাবি জানান তারা।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতি করেছি। এ জন্য  বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্যপদও পেয়েছি। দলের হাই কমান্ডের ইঙ্গিত নিয়ে ভোটের মাঠে নেমে পুঠিয়া-দুর্গাপুরের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তরুণ নেতা হিসেবে সবাই গ্রহণ করেছে। আগামীতে বিএনপিকে একজোট করতে নতুন ও তরুণ মুখের কোনো বিকল্প নেই। 

গোলাম সাকলায়েন বলেন, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক। আমি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং কৃষক। তাই সাধারণ মানুষ নিয়েই আমার পথচলা। আমি দেশের জন্য, সমাজের জন্য রাজনীতি করি। দলের নেতাকর্মীরাও আমাকে কাছে টেনে নেন খুব সহজেই। এ কারণে তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে ভাল করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ২০০৮ সালে যখন সবাই পলাতক ছিল, তখন আমি নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নির্বাচন করেছি। সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। সেই থেকে জনগণের সঙ্গেই আছি। এবারো দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে।

নাদিম মোস্তফা বলেন, আমি পুঠিয়া-দুর্গাপুরবাসীর জন্য যা করে দিয়েছে-তা আগামী ১০০ বছরেও অন্য কোনো এমপি করতে পারবেন না। আমি রাজনীতি করেছি সাধারণ মানুষকে নিয়ে। সাধারণ মানুষই আমার শক্তি। তাদের চাওয়া-পাওয়ার মূল্যায়ন করেছি সব সময়। আগামীতেও তাদের জন্যই রাজনীতি করতে চাই। দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর