Alexa ‘চন্দ্রযান-২’ নিখোঁজ হলেও ধরা পড়ল এক অমূল্য ছবি!

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

‘চন্দ্রযান-২’ নিখোঁজ হলেও ধরা পড়ল এক অমূল্য ছবি!

বিজ্ঞান ডেস্ক

ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত : ১১:৩১ এএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার | আপডেট: ১১:৩৯ এএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

একদম তীরে এসে ‘তরী’ ডুবলো। চাঁদের খুবই সন্নিকটে এসে চন্দ্রযান ২ এর ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো’র সঙ্গে। এ ব্যর্থতার কারণে ভেঙে পড়েন ইসরো’র বিজ্ঞানীরা। সবচেয়ে বেশি অসহায় মনে হচ্ছিল ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিভান চন্দ্রায়ণকে। কিন্তু যার পাশে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন তার ভেঙে পড়ার উপায় আছে? বিজ্ঞানীকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন নরেন্দ্র মোদি। এই সময়ে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তারা। প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘক্ষণ ইসরোর চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে ধরে তাকে উত্সাহিত করতে থাকেন। তারপরই নিজেকে কিছুটা সংযত করে নেন ইসরো প্রধান।

ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি পাঠানো বন্ধ করে দিলেও ভারতের মাটিতে ধরা পড়ল এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। ব্যর্থ হয়েও যে ‘সফলতা’ উপলব্ধি করা যায় অমূল্য এই ছবিতেই তা ধরা পড়ল। ছবিটিতে দেখা যায়, ইসরোর চেয়ারম্যানকে আবেগে আল্পুত হয়ে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তখন কে সিভান চন্দ্রায়ণের চোখ থেকে ঝর ঝর করে ঝরছিল পানি। এই মুহূর্তের কাছে তো ৯৭৮ কোটি রুপি কিছুই না!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কিত ঘটনাগুলো বিবেচনা করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণও দিয়েছেন। তিনি ইসরো বিজ্ঞানীদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনারাই সেই লোক, যারা ভারতকে গর্বিত করার জন্যই বেঁচে থাকেন। আপনারাই তারা, যারা ভারতকে গর্বিত করার জন্য লড়াই করে চলেছেন। আপনারা ভারত মাতার প্রতি অনুরাগী, আপনারা নিজেদের সম্পূর্ণ জীবন তার পায়ে সঁপে দিয়েছেন। আপনাদের স্বপ্ন ভারত মাতার গর্ব।’

এটিই সেই অমূল্য ছবি

মোদি আরো বলেন, ‘আমি গত রাতে আপনাদের মনের অবস্থা বুঝতে পারছিলাম। আপনাদের চোখ অনেক কথা বলছিল। আমি আপনার (ইসরো চেয়ারম্যান) মনের দুঃখ পড়তে সক্ষম হয়েছি এবং সেই সময়ের জন্য আমি আপনার মাঝে বেশিক্ষণ থাকিনি। জানি বিনা ঘুমেই কেটে গেছে আপনাদের, তবু একবার আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছিল। এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত এক একতা মানুষের মনের অবস্থা এক এক রকম। আমরা অনেক বড় সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু হঠাৎই যেন সবকিছু চোখে আসা বন্ধ হয়ে গেল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব যেন কেমন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মন বলে উঠল কেন এমনটা হল? কেন সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল? কিন্তু আপনারা তখনো ভাবছিলেন কিছু তো হবে। কারণ এর পেছনে ছিল আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম। আপনাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। আমার সফলতা পাইনি ঠিকই কিন্তু আমরা আসা ছাড়িনি, বরং তা আরও দৃঢ় হয়ে উঠেছে।’

শেষের ১৩ মিনিটেই তীরে এসে ডুবল চন্দ্রযান-২। যে সময় চাঁদের মাটিতে নামার কথা, সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তার সঙ্গে। যেহেতু এই অবতরণ প্রক্রিয়া একেবারেই স্বয়ংক্রিয়, এখানে কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগও নেই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া চন্দ্রবিজয় করেছে। তবে তা চাঁদের অন্য অঞ্চলে। ভারতের নভোযান চাঁদে অবতরণ করলে তারা চন্দ্রবিজয়ী চতুর্থ দেশ হিসেবে তালিকায় উঠে আসত। এটিই হতো চাঁদের দক্ষিণ প্রান্তের সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়া প্রথম নভোযান।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভারত থেকে মহাকাশে কম্যান্ড পৌঁছনো মাত্রই কাজ শুরু করে ল্যান্ডার। কিন্তু শেষ চারশ’ মিটার, যাকে বলা হয় ‘ফাইন ব্রেকিং ফেজ’, সেখানেই বাঁধল গোলমাল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে