Alexa একাই ৭০ নারীর রক্ত চুষে হত্যা করেছেন তিনি 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

একাই ৭০ নারীর রক্ত চুষে হত্যা করেছেন তিনি 

সৌমিক অনয় 

ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত : ১১:৩৭ এএম, ৬ জুলাই ২০১৯ শনিবার | আপডেট: ০৩:৩১ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘দ্য টোয়াইলাইট সাগা’তে আমরা অনেকেই আলো থেকে লুকিয়ে থাকা মানুষের রক্ত পান করে বেঁচে থাকা ভ্যাম্পায়ার সম্পর্কে জেনেছি। আরো অনেক সিনেমা উপন্যাসে রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ারদের দেখা যায়। আবার অনেক প্রাচীন সভ্যতায় রয়েছে এদের বর্ণনা। তবে বর্তমানে এদের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু আসলেই কি তাই? বিংশ শতব্দীর প্রথম ভাগে ইউরোপের হাংগেরিতে  বসবাস করতেন এমন একজন মানুষ যার সাথে কিনা ভ্যাম্পায়ারদের সকল বৈশিষ্টই মিলে যায়। যে কিনা কয়েক বছরের ব্যবধানেই হত্যা করেছিল ৭০ জন মানুষকে। শুধুমাত্র হত্যা করেই ক্ষান্ত হননি বরং সকল লাশ থেকে রক্ত চুষে বের করে রক্ত পান করেছেন এবং এসকল লাশ লোহার ড্রামে সংরক্ষণ করেছেন। এই ব্যাক্তিই ভ্যাম্পায়ার অফ চিনকোটা নামে পরিচিত। তবে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক তার সম্পর্কে-

ঘটনার শুরু ১৯০০ সালে হাংগেরির রাজধানী বুদাপেস্টের কাছেই এক ছোট শহর চিনকোটায়। বেলা কিস নামক এক ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে চিনকোটায় আসেন এবং একটি ঘড় ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন। সুন্দর চেহারা, স্পষ্ট স্বর এবং কিছুটা ব্যাংগাত্বক হওয়ার কারণে কিস খুব সহজেই তার প্রতিবেশী তথা আশেপাশের মানুষের প্রিয় হয়ে উঠে। নিজের বাড়ির পাশেই কিস টিনের কাজ করতেন। কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় যখন কিসের স্ত্রী ম্যারি, পল নামক এক আর্টিস্ট এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরেই তার স্ত্রী ও পল হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে বলে জানায় কিস।

পরবর্তীতে কিসকে প্রতিদিনই পানশালায় পতিতাদের সাথে দেখা যেত। কিন্তু কিস অন্যান্য সিরিয়াল কিলারদের মত পতিতা হত্যা করেনি বরং কিস হত্যা করেছে সম্ভ্রান্ত নারীদের। কিসের স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার বাড়ির উঠানে অনেকগুলো ড্রাম লক্ষ্য করেন বাড়ির মালিক। তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ড্রামগুলো চেক করতে আসলে কিস জানায় যে ড্রামগুলোতে তিনি আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের জন্য তেল সংগ্রহ করছেন। এই কথা শুনে পুলিশ ড্রাম চেক না করেই চলে যায় এবং যুদ্ধ শুরু হলে কিস ও যুদ্ধে চলে যায়।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে কিস ফিরে না আসলে কিসের বাড়ির মালিক অন্য কাউকে বাড়িভাড়া দেয়ার কথা চিন্তা করলেন। তিনি বাড়ি খালি করার জন্য গেলে সেই ড্রামগুলো থেকে একটি অদ্ভুত গন্ধ পায়। তিনি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে ড্রাম খুলে রীতিমতো ভীত হয়ে পড়ে। প্রতিটি ড্রামে রয়েছে একটি নারীর নগ্ন দেহ। প্রতিটি দেহেরই গলার কাছ থেকে দুইটি দাগ রয়েছে।এমন ৭০ টি ড্রামে রয়েছে ৭০ টি লাশ। যার মধ্যে দুইটি কিস এর স্ত্রী ম্যারি ও তার প্রেমিক পলের। পুলিশ ডেথবডিগুলোর ময়নাতদন্তের পরে জানতে পারে সকল লাশগুলোই রক্তশূন্য এবং গলার কাছ দাগ থেকে এই রক্ত চুষে নেয়া হয়েছে। 

এই ঘটনায় পুরো হাংগেরি ব্যাপি চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দারা তদন্তে নামে। তন্দন্তে জানা যায় কিস সংবাদপত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত গোপনে বিয়ের বিজ্ঞপ্তি দিত। এই বিজ্ঞপ্তিতে যে সকল বিধবা বা একা সম্ভ্রান্ত নারী সাড়া দিত তাদের সাথেই কিস সম্পর্কে জড়াত এবং কিছুদিনের  মধ্যেই তাদের রক্ত চুষে হত্যা করা হত। পুরো হাংগেরিব্যাপী চলে কিস এর খোঁজ। কিস এর মত দেখতে একজন ডিটেকটিভকে গ্রেফতার করে। কিন্তু কোর্টে তিনি কিস এর ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়। এরপর আর ওই ব্যাক্তিকে দেখা যায় না। ধারণা করা হয়, কিস আসলে অন্য কোনো সৈনিক এর লাশের সাথে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি করে। কিছু বছর পর আবার ফ্রান্সে এমন রক্ত চুষে হত্যা করার ঘটনা শোনা যায়। তবে সেটাও কিস এর কীর্তি না-কি তা সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি। এভাবেই কিসের কেস অমীমাংসাই থেকে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস