তিনজন ধর্ষণ করতো, বাকিরা দাসী হিসেবে ব্যবহার করতো

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

সেই ভয়াল দিনের দুঃসহ স্মৃতি 

তিনজন ধর্ষণ করতো, বাকিরা দাসী হিসেবে ব্যবহার করতো

ডেস্ক নিউজ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত : ০৪:৫৪ পিএম, ১২ মে ২০১৯ রোববার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

২০১৪ সালে ইরাকের ইয়াজিদি গ্রামগুলোর দখল নেয় আইএস জঙ্গিরা। সেসময় ছয় হাজারের বেশি নারী ও শিশুকে বন্দী করে তারা - যাদের মধ্যে ছিল মারিয়াম ও তার মা।

চার বছর ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের হাতে বন্দী থাকা মারিয়াম বলছিলেন তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।  

বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা আমার শরীরে বিস্ফোরক লাগানো একটি আত্মঘাতী পোশাক পড়ায়। তারপর বলে ট্রিগার চেপে দিতে। আইএস যখন আমাকে বন্দী করে তখন আমার বয়স ১২। আমাকে আটজনের কাছে বিক্রি করা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে তিনজন আমাকে ধর্ষণ করতো, বাকিরা আমাকে দাসী হিসেবে ব্যবহার করতো।  

মারিয়াম বলেন, আমি বহুবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। বন্দী থাকা অবস্থায় মা'র সাথে একবার আমার দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। তখন মা'কে প্রতিশ্রুতি দেই যে আত্মহত্যার চেষ্টা করবো না। 

মারিয়াম পালিয়ে আসতে পারলেও তার মা'র এখনো কোনো খোঁজ নেই। মারিয়াম ও তার মায়ের সঙ্গে হওয়া ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় মারিয়ামের বাবাকে।

মারিয়ামের বাবা বলছিলেন, এমন যদি হতো যে আমার মৃত্যু হলে মারিয়ামের মা ফিরে আসতো, তাহলে সে মৃত্যুই ভালো হতো আমার জন্য। মারিয়ামকে আমি বলি যেন ওেই সময়ের (বন্দী থাকাকালীন সময়ের) স্মৃতি ভুলে যায়। সেসব স্মৃতি যত মনে করবে, ততই মানসিক কষ্ট বাড়বে। 

তবে বাবার সেসব কথা মারিয়ামের অতীতের দু:সহ স্মৃতি ভুলতে সাহায্য করে না।
 
গত ৪০ বছরে ইরাকে তিনটি বড় পরিসরের যুদ্ধ, একটি সামরিক অভ্যুত্থান ছাড়াও তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের দু'টি অভ্যুত্থান এবং জঙ্গিবাদী মিলিশিয়াদের সঙ্গে সরকার সমর্থিত বাহিনীর গৃহযুদ্ধ হয়েছে।

এছাড়াও ইরাকে প্রায় এক দশক ধরে চলেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলা। প্রায় চার দশক ধরে এরকম একের পর এক সহিংস ঘটনার প্রভাব পড়েছে দেশটির মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।

ইরাকে প্রতি তিন লাখ মানুষের জন্য মানসিক সমস্যার চিকিৎসক রয়েছেন একজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে