আইজ্যাক লিটন বাংলা ওয়েব সিরিজের নতুন বিস্ময়

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

আইজ্যাক লিটন বাংলা ওয়েব সিরিজের নতুন বিস্ময়

মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৮ ৭ মে ২০২২  

আইজ্যাক লিটন, দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম বিঞ্জের নতুন সিরিজ। বিঞ্জ এর আগে বেশ কিছু বিতর্কিত কন্টেন্ট বানালেও এবার তারা সম্পূর্ন ভিন্ন ধরণের একটি গল্পকে বেছে নিয়েছে। ভিন্ন ধরণের এই গল্পের নির্মাণে বিশেষ করে গল্প বলার ক্ষেত্রে নতুনত্ব দেখিয়েছেন নির্মাতা। যে কারণে রিলিজের পর থেকেই সিরিজটি নিয়ে দর্শক সমালোচকদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপাক আগ্রাহ। 

সোশাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যেই সিরিজটি নিয়ে অনেকেই আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, আইজ্যাক লিটন বাংলা ওয়েবে সিরিজের ক্ষেত্রে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। আবার কেউ কেউ মোশাররফ করিমের সম্পূর্ন নতুন গেটাপের প্রশংসা করেছেন। প্রশংসা করেছেন মোশাররফ করিমের অভিনয়ের। কেউ কেউ বলছেন, এটা মোশাররফ করিমের ক্যারিয়ারের সেরা কাজ। 

লেখক ছবিটি বিঞ্জের আইজ্যাক লিটন সিরিজ থেকে সংগৃহ করেছেন।

আইজ্যাক লিটন সেরা কাজ কিনা সেটা বিবেচনা করবে সময়। তবে সিরিজের গল্পে এবং চিত্রনাট্য এতটাই নিখুঁত, যে আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে। আইজ্যাক লিটনের ট্যাগলাইন ছিল, স্রোতের বিপরীতে হাঁটা মানুষের গল্প। সিরিজটি দেখার পর মনে হয়েছে নির্মাতা নিজেই স্রোতের বিপরীতে হেঁটেছেন। 

মোশাররফ করিমের অভিনয় প্রতিভা নিয়ে কারো সন্দেহ থাকার কোনো কারণ নেই। তবে এই সিরিজে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, গল্প এবং চরিত্র অনুযায়ী এক্টিং প্যাটার্নে পরিবর্তন আনা। কিছু দৃশ্যে তার মুখ থেকে বের হওয়া সংলাপগুলো আপনাকে বিস্মিত করে দেবে। যেমন, প্রতি জোছনায় মা আমার মাথায় জোছনা বুলিয়ে দিতেন। আমি বলতাম, মা আমিও কী বাবার মতো পাগল হয়ে যাব? মা বলতেন, যে ছেলের মাথায় মা জোছনা মেখে দেয়, সে কখনো পাগল হয় না।’ বেশ কিছু দৃশ্য এক টেকে নিয়েছেন, যেটা গল্পকে আরো অর্থবহ করেছে। 

লেখক ছবিটি বিঞ্জের আইজ্যাক লিটন সিরিজ থেকে সংগৃহ করেছেন।

সিরিজের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র স্পর্শীয়া অভিনয় করেছেন চন্দ্রাবতী চরিত্রে। গল্প যত এগিয়েছে তার চরিত্রই যেন ততই রহস্য ছড়িয়ে, সেই অভিনয় প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। সিরিজের আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো চরিত্র অনুযায়ী অভিনয়শিল্পী নির্বাচন। ছোট ছোট চরিত্রের জন্য দেশসেরা অভিনয় শিল্পীদের কাস্ট করেছেন। তারা সবাই নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। মাজনুন মিজান নামটি হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার সাথে সাথে অনেকটা হারিয়ে গিয়েছিল। বশির চরিত্রের মাধ্যমে তার পুনর্জন্ম হলো। স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো অভিনয় করেছেন। 

প্রথম পর্ব থেকেই রয়েছে একের পর এক চমক। প্রতি পর্বের ক্লিফহ্যাঙারগুলো ছিল দুর্দান্ত। সিরিজটি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সংলাপগুলো মাথার ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলা সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজে এত চমৎকার সংলাপ খুব কমই দেখা যায়। 

লেখক ছবিটি বিঞ্জের আইজ্যাক লিটন সিরিজ থেকে সংগৃহ করেছেন।

সিরিজের সংলাপ এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন নির্মাতা আশরাফুজ্জামান নিজেই। এর আগেই ‘হ্যামলেটের ফিরে আসা’ নাটক একটি টিভি নাটক নির্মাণ করে নাট্যাঙ্গনে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। এবার ওয়েব সিরিজে তিনি এক ধরণের চমক দেখিয়েছেন। সেদিক বলা যায় আইজ্যাক লিটন বাংলা ওয়েব সিরিজের নতুন বিস্ময়। 

সিরিজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল লোকেশন এবং সেট নির্মাণ। লোকেশন ছিল চোখ ধাঁধানো। রহমানুল্লা বাশুর শিল্প নির্দেশনায় সেটগুলো ছিল গল্প অনুযায়ী পারফেক্ট। সেটের মূল আকর্ষণ ছিল ল্যব্রেটরি। সুমন হেসেনের সিনেম্যাটোগ্রাফি ছিল চোখে পড়ার মতো। গল্পের গভীরতা অনুযায়ী বিভিন্ন শটে ফোকাস শিফ্টিং ছিল চমৎকার। 

রাশেদ রাব্বির সম্পাদনা ও কালার গ্রেডিং ছিল চমৎকার। বিজিএম এবং সাউন্ড মিক্সিং আরো সুন্দর হতে পারত। 

লেখক: নাট্যকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »