দিল্লি হয়ে ঢাকা ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

ঢাকা, রোববার   ২৩ জানুয়ারি ২০২২,   ৯ মাঘ ১৪২৮,   ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দিল্লি হয়ে ঢাকা ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

 প্রকাশিত: ১৪:০২ ১০ জানুয়ারি ২০২২  

অমিত গোস্বামী
পরিচিতি ও কাব্যচর্চা দুই বাংলায়। মূলতঃ কবি হলেও উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও পাঠকমহলে জনপ্রিয়। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই কলকাতায়। কর্পোরেটের চাকরি ছেড়ে সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ বেশ দেরিতেই। কিন্তু অগ্রগমন দ্রুত। এরইমধ্যে ১০ টি গদ্য ও উপন্যাস এবং ৪ টি কবিতা সংকলন প্রকাশিত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলতাফ, হুমায়ূন ও বঙ্গবন্ধুর কলকাতার জীবন অবলম্বনে লেখা উপন্যাস ‘মহানির্মাণ’।

দিনটি ছিল কলকাতায় ছুটির দিন। ৯ জানুয়ারি, ১৯৭২। রবিবার। রোদ তখনও মিঠে। আকাশবাণীতে ঘোষণা হলো মুজিব মুক্ত, বঙ্গবন্ধু ছাড়া পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আসছেন। পাকপশুদের গুহা থেকে ছাড়া পাওয়া বঙ্গশার্দুল দিল্লির পথে। আকাশবাণীতে ঘোষণা হওয়ামাত্র লোকজন বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়। 

পাড়ার মোড়ে জটলা। চায়ের দোকানে তুমুল আলোচনা। রেডিওর খবর শুরু হতে হামলে পড়া মানুষজনের। ভুট্টোবাবুর আদ্যশ্রাদ্ধ চলছে। বাঘকে কি কেউ চিরকাল বেঁধে রাখতে পারে। হঠাৎ উল্লাস। আকাশবাণীতে বাজছে – শোনো, একটি মুজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি...। শেখ মুজিব আসছেন। কলকাতা নিশ্চিত যে ঢাকার পথে মুজিব একবার কলকাতার মাটিতে পা রাখবেন। 

শেখ মুজিব তখন কোথায়? তার বিমান তখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি নিয়ে বিমানটি আবার উড়তে শুরু করেছে। তার সাথে বিমানে ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভেদ মারওয়া, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী হামিদা হোসেন, ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি। এরমধ্যে বঙ্গবন্ধুকে কলকাতা হয়ে দেশে ফেরার অনুরোধ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের বার্তা এল। কলকাতাবাসী বঙ্গবন্ধুকে দেখতে চায়। তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফিরতি বার্তায় জানালেন, স্বাধীনতাসংগ্রামে কলকাতাবাসীর সহযোগিতা তাকে কৃতজ্ঞ করেছে। কিন্তু দিল্লি হয়ে ঢাকা ফিরতে তার তর সইছে না। তবে শিগগিরই তিনি কলকাতা আসবেন। কলকাতা তার নিজের শহর। তার তারুণ্যের সাথী। তার যৌবনের উপবন। এই শহরেই তার রাজনৈতিক দীক্ষা। এই শহরেই কেটেছে তার দীর্ঘ সাত বছর। তিনি অদূরভবিষ্যতে অবশ্যই আসবেন। বার্তা পাঠিয়ে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘পথ তো মনে হয় ফুরাতে চাইছে না। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত আকাশ, মানুষ, প্রকৃতি আমাকে ডাকছে। এ যে কী অনুভূতি, আমি বোঝাতে পারব না!’ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বার্তা পাঠালেন যে মুজিবকে যেন একবার কলকাতায় পা রাখার অনুরোধ করা হয়। কারণ ১০ জানুয়ারির সকালে কলকাতার দৈনিক পত্রিকায় কোন ইঙ্গিত ছিল না যে শেখ মুজিব কলকাতায় আসছেন না। দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা হেডিং করল– মুক্ত মুজিব দিল্লির পথে, কলকাতায় হয়ে ঢাকায় নামবেন। দৈনিক যুগান্তর লিখল– পাক কারাগার থেকে মুজিবের মুক্তি, ফিরছেন দিল্লি, কলকাতা হয়ে ঢাকা। প্রভাতী সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কলকাতায় আসবেন মধ্যদুপুরে।

১০ জানুয়ারি ১৯৭২-এর সেই অবিশ্বাস্য সকাল। পালাম বিমানবন্দর। আটটা বেজে দশ মিনিট। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রুপালি কমেট বিমান। নামলেন সুদর্শন, দীর্ঘকায়, ঋজু, নবীন দেশের রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতার পর শীতের সেই প্রত্যুষে তিনি বাংলায় করলেন তার ভাষণের শুরু। ‘শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী, উপস্থিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ...।’ ভারতের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো কলকাতা হয়ে ঢাকা যাওয়ার। কলকাতা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু রাজি হলেন না। জানালেন যে তার ইচ্ছে প্রথম সুযোগেই তার দেশের মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া। কলকাতায় গেলে যদি কোনো কারণে কলকাতায় বিলম্ব ঘটে, শীতের সন্ধ্যা নামে তাড়াতাড়ি নামে, তাহলে সন্ধ্যায় ঢাকায় জনসভা অনুষ্ঠিত করা অসুবিধে আর ঢাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তায় হয়তো অসম্ভব হবে। তাছাড়া স্বাধীনতাসংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গ আর কলকাতার অধিবাসীরা বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষকে দিয়েছে আশ্রয়। তাদের ঢাকার যাত্রাপথের বিরতিতে ধন্যবাদ না জানিয়ে, বঙ্গবন্ধুর মতে, যথার্থ হবে একটি বিশেষ সফরে কলকাতা গিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা। অকাট্য যুক্তি। মেনে নিলেন শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী। যখন তিনি আকাশে ঢাকার পথে তখন আকাশবাণী প্রচার করল যে বঙ্গবন্ধু কলকাতায় আসছেন না। সরাসরি ঢাকা যাবেন। কলকাতা হতাশ হলো। কলকাতার দমদম বিমান বন্দরসহ অন্যান্য প্রটোকলও প্রস্তত রাখাই ছিল। কিন্তু আকাশপথ থেকেই তিনি বার্তা দিয়ে দেন তিনি আগে দেশে ফিরবেন। সেদিন আর এলেন না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় প্রটোকলের পরোয়া করতেন না। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় সরাসরি ফোন করলেন তাজউদ্দীন সাহেবকে। মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের কলকাতা অবস্থানকালে সবার সঙ্গে সিদ্ধার্থবাবুর সখ্যতা খুব গড়ে উঠেছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের উৎসাহে ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ অনুরোধে ও আমন্ত্রণে তিনি কলকাতায় এলেন ৬ ফেব্রুয়ারি। সে অন্য প্রসঙ্গ।

ইতিহাসে বিভিন্ন ঘটনা ইতিহাসবেত্তারা বিভিন্নভাবে উল্লেখ করেন। এদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ও বিশ্লেষণ এক প্রকার নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হাতে গ্রেফতার হওয়া, পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিত্ব, বন্দিদশা থেকে মুক্তি, মুক্তির পর লন্ডনে গমন, সেখান থেকে দিল্লি হয়ে বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে সবার পর্যবেক্ষণ এক রকম নয়। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একাত্তরের ১ মার্চ থেকে বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার প্রতিটিই যথার্থ ছিল। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন এবং অপছন্দ করতেন কমিউনিস্টদের মতো আত্মগোপনে থাকা। তিনি রাজনীতি করতেন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘আমি পালিয়ে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কারণ আমি গোপন রাজনীতি পছন্দ করি না, আর বিশ্বাসও করি না।’ (পৃ. ১৩৪) ব্রিটিশ ধাঁচের সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ছিল বঙ্গবন্ধুর পছন্দ। একাত্তরের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করেন। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ঘোষণার পরও ২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে না গিয়ে কামান–বন্দুক দিয়ে বাঙালিকে দমনের পথ বেছে নেয় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে মানবেতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু জনগণনন্দিত মেজরিটি পার্টির নেতা, তিনি বিপ্লবী নেতা নন, গেরিলা নেতাও নন, তিনি কারও ভয়ে পালাতে পারেন না। দলের কোনো কোনো সহকর্মী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ২৫ মার্চ সন্ধ্যারাতে আত্মগোপনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সম্মত হননি। জনগণকে কামানের নলের মুখে রেখে তিনি আত্মগোপনে যেতে চাননি। একজন সংসদীয় গণতন্ত্রের নেতা হিসেবে তিনি তার বাসভবনেই অবস্থান করেন। তার সহকর্মীরা তাকে ছেড়ে আত্মগোপন করেন। শুধু বাঙালিরা নন, দেশের বাইরের সাংবাদিকদের অনেকের অনুমান ছিল, বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর আত্মগোপন করেছেন। ২৭ মার্চ কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘মুজিবুর কি কাগমারীতে?’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মুজিব কোথায়? খবর নেই। কিন্তু আমাদের রাজনীতির ভাষ্যকারের কাছে খবর আছে। হয়তো তিনি ইতিমধ্যে ময়মনসিংহের কাগমারীতে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন এবং অতঃপর সম্ভবত তিনি নিরাপত্তার প্রয়োজনে আসাম সীমান্তের দিকে পূর্বনির্দিষ্ট কোনো স্থানে চলে যাবেন।’ আত্মগোপন না করে গ্রেফতার হওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের কয়েকটি সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের একটি। তিনি সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে ছিলেন বলেই আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পান।

গ্রেফতারের এক সপ্তাহ পরে গ্রেফতার করা অবস্থায় করাচিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে নির্জন কারাগারে বন্দি রাখে। তার নিরাপত্তা ও মুক্তির জন্য জনমত গঠিত হতে থাকে। ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ বন্দিশালায় বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার শুরু হয় এবং সেই প্রহসনমূলক বিচারে তাকে ‘দেশদ্রোহী’ ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড দেয় সামরিক আদালত। বন্ধুরাষ্ট্র ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারও তার মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা তার মুক্তির দাবি জানায়। এর মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। খেলাটা শুরু হয় এরপরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বুঝেছিলেন এবার পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে তাদের পরাজয়ের যন্ত্রণার ক্ষতে প্রলেপ দিতে। তিনি গোপনে জুলফিকার আলি ভুট্টোকে টেলিফোনে বলে যে ভারতের হাতে ৯৩০০০ পাক সেনা বন্দি আছে। শেখ মুজিবকে হত্যা করলে এই ৯৩০০০ বন্দিসেনাদের পাকিস্তানে ফেরার গ্যারান্টি তিনি দিতে পারছেন না। পরাজিত পাক সেনাবাহিনী তীব্রভাবে শেখ মুজিবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চাইলেও ভয় পেলেন জুলফিকার আলি ভুট্টো। প্রধানমন্ত্রী তিনিই হচ্ছেন। এমতাবস্থায় ৮ জানুয়ারি ১৯৭২, পাকিস্তানের নতুন সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো নিজে কারাগারে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথাও তাকে জানানো হয়। কিন্তু সরাসরি ভারতে বঙ্গবন্ধুকে পাঠানোর প্রস্তাবে রাজি হয়নি পাক সেনাবাহিনী। ৯ জানুয়ারি জানা গেল, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে সরাসরি বাংলাদেশে না এসে তিনি লন্ডনে যাচ্ছেন। এখান থেকেই দায়িত্ব তুলে নিল ভারত। ১০ জানুয়ারি সকালে দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল থেকেই তেজগাঁও বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে থাকে। রেসকোর্স ময়দান (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভরে যায় লাখো মানুষে। বঙ্গবন্ধুর বিমান আকাশে চক্কর দিয়ে অবতরণ করে। ওই বিমানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এসেছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি সাংবাদিক আতাউস সামাদ। তার বয়ান অনুযায়ী বিমান থেকে নিচে তাকিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন দেখতে পান অগণিত মানুষ, তিনি বিচলিত বোধ করেন এবং স্বগতোক্তির মতো বলেন, ‘এই মানুষগুলোকে আমি খেতে দিতে পারব তো!’ সন্ধ্যাবেলা আতাউস সামাদ আমাদের বললেন, বিমানে বঙ্গবন্ধু বারবারই শুনতে চাইছিলেন কোথায় কোথায় কী কী ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। তিনি চিন্তিত ছিলেন কিভাবে দেশকে পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন। বিমানবন্দর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে। একটি খোলা জিপে বঙ্গবন্ধু ছিলেন। আকাশবাণীর দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ধারাবিবরণীতে ছিলেন। একটু পরপরই একটি রবীন্দ্রসংগীত হচ্ছিল, ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়, তোমারি হউক জয়।’

সেদিন বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি যে কতটা প্রয়োজন ছিল, তা এখনকার প্রজন্মের অনেককেই বোঝানো সম্ভব নয়। তখন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেকেই মনে করছিলেন, ‘আমরা সবাই রাজা’। কেউ কাউকে মানছিলেন না। তরুণ নেতারা অস্থায়ী সরকারের কোনো কথা শুনছিলেন না। একটি নৈরাজ্যের মতো অবস্থা ছিল ২৫টি দিন। তিনি না এলে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিতে চাইতেন না সহজে। ভারতীয় সৈন্যও হয়তো অত তাড়াতাড়ি ফিরে যেত না। অনেক দেশের স্বীকৃতি পেতেও বেগ পেতে হতো। তার প্রত্যাবর্তনের দিন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সংহত হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস

English HighlightsREAD MORE »