ঈদের বাজারে জাল টাকা রোধে মনে রাখুন বড় নোটের বৈশিষ্ট্য

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

ঈদের বাজারে জাল টাকা রোধে মনে রাখুন বড় নোটের বৈশিষ্ট্য

রিয়াজুল হক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৩ ৭ মে ২০২১   আপডেট: ১৯:৫৮ ৭ মে ২০২১

কয়েকদিন পর ঈদ-উল-ফিতর। দোকান-পাট খোলা আছে। অনেকেই কেনাকাটার জন্য দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। উৎসবের এ সময়ে জাল নোটের প্রতারকরা অনেক তৎপর থাকে। আর ভুক্তভোগী হয় সাধারণ মানুষ। দুই-তিন দিন আগে সংবাদে দেখলাম, ঢাকায় ভাড়া বাসা থেকে জাল নোট এবং জাল নোট তৈরির সরঞ্জামাদিসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের সাবধান হওয়া ছাড়া উপায় নেই। বিশেষ করে, বাজারে নতুন নোট দেখলে একটু বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সাধারণত, জাল টাকার টাকার নোটগুলো নতুন হয়ে থাকে। কারণ জাল টাকার নোটগুলো সাধারণ কাগজের তৈরি। তাই পুরাতন হয়ে গেলে সেই নোট অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়, যা বোঝা যায় অতি সহজেই। পুরাতন জাল টাকার নোট ঝাপসা দেখায়। আসল নোটের মত ঝকঝকে থাকে না।

অনেক দেশের মুদ্রাবাজার জাল নোটে ভরপুর। জাল এবং কালো টাকা বেশ কিছু দেশের মুদ্রা বাজারে এমনভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার পর্যন্ত হিমশিম খাচ্ছে। এ সমস্যা দূরীকরণসহ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য ভেনিজুয়েলা দেশটির বহুল ব্যবহৃত ১০০ বলিভার নোট বাতিল করেছিল। ভারত তার মুদ্রা বাজারের সর্বোচ্চ দুটি মানের রুপিও বাতিল করেছিল। মূলত যেসব কারণে ভেনিজুয়েলা কিংবা ভারত নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তার একটি হচ্ছে বাজার থেকে জাল নোট মুক্ত করা।

জাল নোট আমাদের দেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। জাল টাকা যেহেতু ছড়িয়ে রয়েছে, তাই আমাদের জানা উচিত আসল টাকার কিছু বৈশিষ্ট্য। অন্যথায় কষ্টের উপার্জিত টাকা কখন যে জাল টাকায় রূপ নেবে, তা আদৌ বলা যায় না। সাধারণ মানুষের কিছুটা সচেতনতার অভাব এবং জাল নোটের প্রতারকরা নিত্য নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এই সমস্যা সকলকেই ভাবিয়ে তুলেছে। প্রত্যেকেরই জানা উচিত আসল নোটের বৈশিষ্ট্যসমূহ। বড় নোটের ক্ষেত্রে জাল করার বিষয় জড়িত থাকে। 

এজন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সম্বলিত আসল ব্যাংক নোটের কিছু সহজ বৈশিষ্ট্য, যা খালি চোখে দ্রুত বোঝা যায়, আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন। 

*কাগজ: নোটটি সিনথেটিক ফাইবার মিশ্রিত অধিক টেশসই কাগজে মুদ্রিত হবে।

*ইন্টাগিও লাইন: নোটের ডানদিকে আড়াআড়িভাবে ইন্টাগ্লিও কালিতে সাতটি সমান্তরাল লাইন আছে। 

* অসমতল ছায়া: নোটের সামনের দিকে ইন্টাগ্লিও কালিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি মুদ্রিত আছে। 

*অন্ধদের জন্য বিন্দু: ১০০০ টাকার নোটের ডানদিকে অন্ধদের জন্য পাঁচটি ছোট বিন্দু;  ৫০০ টাকার নোটের ডানদিকে অন্ধদের জন্য চারটি ছোট বিন্দু রয়েছে, যা হাতের স্পর্শে উঁচু নিচু অনুভূত হবে। 

*রং পরিবর্তনশীল হলোগ্রাফিক সুতাঃ নোটের বাম পাশে ৪ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা; যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো ও ৫০০, ১০০০ টাকা লেখা আছে; সরাসরি দেখলে লোগো ও ৫০০, ১০০০ টাকা সাদা দেখাবে; কিন্তু পাশ থেকে দেখলে বা ৯০ ডিগ্রিতে নোটটি ঘোরালে তা কালো দেখাবে। 

*জলছাপ: কাগজে জলছাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি; প্রতিকৃতির নিচে অতি উজ্জ্বল ইলেক্ট্রোটাইপ জলছাপে ৫০০ এবং ১০০০ লেখা আছে এবং জলছাপের বামপাশে বাংলাদেশ ব্যাংকের উজ্জ্বলতর ইলেক্ট্রোটাইপ জলছাপ রয়েছে।

*ব্যাগ্রাউন্ড মুদ্রণ: ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের সামনের দিকে পটভূমি বা ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা অফসেটে জাতীয় স্মৃতিসৌধ রয়েছে। 

*নোটের পেছন ভাগ: ১০০০ টাকার নোটের পেছনের দিকে ইন্টাগ্লিও কালিতে জাতীয় সংসদ ভবন মুদ্রিত আছে, যা হাতের আঙ্গুলের স্পর্শে অসমতল অনুভূত হবে। ৫০০ টাকার নোটের পেছনের দিকে ইন্টাগ্লিও কালিতে বাংলাদেশের কৃষি কাজের দৃশ্য মুদ্রিত আছে যা হাতের আঙ্গুলের স্পর্শে অসমতল অনুভূত হবে।

* রং পরিবর্তনশীল কালি: ১০০০ টাকার ডানদিকের কোণায় ১০০০ লেখাটি সরাসরি তাকালে সোনালী এবং তির্যকভাবে তাকালে সবুজ রং দেখা যাবে। ৫০০ টাকার ডানদিকের কোণায় সরাসরি তাকালে ৫০০ লেখাটি লালচে এবং তির্যকভাবে তাকালে সবুজ রং দেখা যাবে।

অন্যান্য মানের নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও আমাদের ধারণা থাকা প্রয়োজন। নোট জাল করা ও জাল নোট লেনদেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও আমাদের সচেতন হতে হবে। কারণ সচেতন না হলে, ক্ষতিগ্রস্ত আমরাই হবো। আর ঈদের সময় সাধারণত জাল নোটের প্রতারকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এজন্য সকলের চাই বাড়তি সতর্কতা।

যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ