পদ্মাসেতু: শিল্পায়নের দ্রুত বিকাশ হবে কৃষিপ্রধান ফরিদপুরে

ঢাকা, রোববার   ২৬ জুন ২০২২,   ১২ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

পদ্মাসেতু: শিল্পায়নের দ্রুত বিকাশ হবে কৃষিপ্রধান ফরিদপুরে

হারুন আনসারী, ফরিদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৩ ২৪ জুন ২০২২   আপডেট: ০৪:৩৮ ২৫ জুন ২০২২

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মাসেতু চালুর পর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের ফলে ফরিদপুরে শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের আশা করা হচ্ছে। তবে কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভারসাম্য গড়ে তুলতে দরকার পরিকল্পিত শিল্পোন্নয়ন। অন্যথায় ব্যাপকভাবে কৃষি জমি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে এখন থেকেই এখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং সেবামূলক শিল্প প্রতিষ্ঠানের চেয়ে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানা স্থাপনের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ফরিদপুর চেম্বার অব কসার্ম অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রায় মধ্যভাগে গড়ে ওঠা জেলা ফরিদপুরের সঙ্গে দেশের রাজধানীসহ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান বাধা ছিল পদ্মা নদী। তবে এখন পদ্মাসেতু নির্মাণ বাস্তব রূপ লাভ করায় ফরিদপুরের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় বাধা দূর হয়ে গেছে। এছাড়া পদ্মাসেতুর সঙ্গে এখানে গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে। নির্মাণাধীন রয়েছে একাধিক লেনবিশিষ্ট রেলপথ নির্মাণ কাজ। এজন্য দেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের নজর এখন ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে এ অঞ্চলের দিকে এসে পড়েছে। এরই মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার উপড় দিয়ে চলে যাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে বড় পরিসরের জমি কিনতে ঝুঁকে পড়েছে বড় বড় কোম্পানি। এতে হু হু করে বেড়ে গেছে জমির দামও। এ অবস্থায় কৃষি প্রধান ফরিদপুর জেলার অর্থনৈতিক গতি কি পরিবর্তন হয়ে শিল্পমুখী হয়ে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরের গোল্ডেন জুট মিলের মালিক মনিরুজ্জামান বলেন, পদ্মাসেতু চালু হলে এখানকার পাটভিত্তিক শিল্পকারখানাগুলোর পণ্য রফতানিতে বড় বাধা দূর হবে। সরকারি খাতে এখানে একমাত্র চিনিকলের বাইরে অন্য কোন ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। ব্যক্তিমালিকানা খাতে কয়েকটি পাটকলসহ সবমিলিয়ে ২০টির মতো শিল্পকারখানা রয়েছে। ফরিদপুর-গোয়ালন্দ মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে একটি একটি পাইপ ইন্ডাস্ট্রি ও মোটর শিল্পসহ কিছু কলকারখানা। যোগাযোগ খাতের দুর্বলতার কারণে এখানে এতদিন ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। একারণে এই জনপদের উন্নয়নও এগোতে পারেনি। এখন সেই ভোগান্তি দূর হবে। পদ্মাসেতু দিয়ে সরাসরি মালামাল পাঠানো যাবে। এতে সময়ও বাঁচবে, খরচও কম হবে।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকার গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক বলেন, পদ্মাসেতুর মাধ্যমে ঢাকা থেকে গাজীপুর, কাঁচপুর বা সাভারে যাওয়া-আসা করতে যে সময় লাগে, তার অর্ধেক সময় লাগবে ফরিদপুরসহ এ অঞ্চলে আসতে। এখানে শ্রমিকের মজুরি কম এবং জমির দামও সহজলভ্য। পদ্মাসেতুর মাধ্যমে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগস্থাপিত হলে অনেকেই এখানে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। ব্যাপকভাবে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

তিনি আরো বলেন, এরইমধ্যে অনেকে জমি কিনে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। এর মধ্যে উৎপাদনমুখী হতে শুরু করে আবাসনের মতো সেবামুখী খাতও রয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদ জানান, পদ্মাসেতু চালু হওয়ার আগেই ফরিদপুরে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনি অবহেলিত পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষকে অগ্রাধিকার দেবেন।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো ফরিদপুরেও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার উম্মোচিত হয়েছে। একসময় উত্তরাঞ্চলকে বলা হতো মঙ্গা কবলিত অঞ্চল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেতু তৈরির পর সেখানে অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। তেমনি পদ্মাসেতু ফরিদপুরের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এনে দেবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এমআরকে/মাহাদী

English HighlightsREAD MORE »